বাংলা নববর্ষ শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এ দিনটিকে ঘিরে থাকে নানা আয়োজন, আর তার মধ্যমণি হয়ে ওঠে পান্তা-ইলিশ। প্রতি বছর এই দিনে ইলিশের চাহিদা থাকে তুঙ্গে।
কিন্তু এ বছর চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন দৃশ্য। বৈশাখের আগের দিন রোববার (১৩ এপ্রিল) থেকে শুরু করে আজ সোমবার নববর্ষের সকাল পর্যন্ত ক্রেতাদের মধ্যে ইলিশ কেনার আগ্রহ তেমন লক্ষ্য করা যায়নি। বাজারে হাতে গোনা কয়েকজন ব্যবসায়ী ইলিশ সাজিয়ে রাখলেও বেশিভাগ ক্রেতাই ফিরে গেছেন খালি হাতে। কেউ দেখেছেন, কেউ দাম জেনে চলে গেছেন, কিনেছেন খুব কমই। এমনকি যে সকালে ইলিশ কেনার হিড়িক পড়ে- সেই নববর্ষের সকালেও বিক্রি ছিল একেবারেই মন্থর।
গেল রোববার সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের মাছ বাজারে দেখা গেছে, মাত্র চারজন ব্যবসায়ী ইলিশ বিক্রি করছেন।
তারা জানায়, অন্য বছর পহেলা বৈশাখের দুই থেকে তিন দিন আগেই ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকত। কিন্তু এবার চাহিদা নেই বললেই চলে। দাম তুলনামূলকভাবে কম- প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ১৬০০ টাকার মধ্যে- তবুও বিক্রি একেবারেই মন্দা।
ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা মোজাফফর আলী বলেন, ‘প্রতি বছর বৈশাখে ইলিশ কিনে বাসায় পান্তা-ইলিশ খাই, এটা যেন একটা রীতি হয়ে গেছে। কিন্তু এবার বাজারে এসে দেখি মাছ নেই, আর যে দু’য়েকজন বিক্রি করছেন তারা দাম বেশি চাইছেন। মাঝারি সাইজের একটা ইলিশের দাম চাচ্ছে ১২০০ টাকা কেজি। এবার ইলিশ কিনবো না।’
মাসুদ মিয়া নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘পরিবারের অন্য খরচ সামলে ইলিশ কেনা কষ্টকর।’
তাছাড়া ইলিশের স্বাদ নিয়েও অনেকেই অভিযোগ করছেন- আগের মতো তাজা বা সুস্বাদু নয়। একটি মাত্র মাছ কিনেছি ৬০০ টাকায়। বাচ্চারা পান্তা-ইলিশ খেতে চেয়েছে, না হলে কিনতাম না।’
মাছ ব্যবসায়ী সাহেব আলী বলেন, ‘আমি গত ১০ বছর ধরে পহেলা বৈশাখের আগে ইলিশ বিক্রি করি। অন্য বছর এই সময়ে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ত। এক দিনেই ২০ থেকে ৩০ কেজি ইলিশ বিক্রি হতো। এবার সেই চিত্র নেই। দাম কমিয়ে দিয়েছি, তবু ক্রেতারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অনেকে এসে মাছ দেখে যাচ্ছেন, কিনছেন না। কেউ বলছেন স্বাদ নেই, আবার কেউ দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট। বৈশাখে ইলিশ বিক্রি না হওয়া আমাদের জন্যও হতাশার।’
শিউলি আক্তার নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী নারী এসেছেন চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার নিচের বাজারে। তার সাথে কথা হলে, তিনি বলেন, ছুটির দিন স্পেশাল রান্না-বান্না করবো, বাজার করতে এসেছি।
পান্তা-ইলিশ খাবেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পান্তা-ইলিশে আমাদের আগ্রহ কম। বাচ্চাদের তেমন আগ্রহ নেই বলেই এবার বাড়িতে পান্তা-ইলিশ এর আয়োজন করিনি।