গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাক শ্রমিক স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ মেঝেতে রেখে আসবাবপত্রে আগুন দিয়ে ঘর তালাবদ্ধ করে স্বামী পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে ইন্দ্রপুর গ্রামে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত পোশাক শ্রমিক মারুফা আক্তার (৪৫) ইন্দ্রপুর গ্রামের মৃত মোনতাজ উদ্দিনের মেয়ে এবং একই গ্রামের ওষুধ (ফার্মেসি) ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের স্ত্রী। আর অভিযুক্ত মিজানুর রহমান একই গ্রামের সুলতান উদ্দিনের ছেলে।
ঘটনার পর থেকে মিজান পলাতক রয়েছেন। তাদের দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তাদের উভয়ের আগের ঘরে দুটি করে সন্তান রয়েছে।
নিহত মারুফার ছোট বোন কুলছুম আক্তার জানান, মিজানুর রহমান তার বোন মারুফা আক্তারকে তিন বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো। মারুফা স্থানীয় মোশারফ কম্পোজিট টেক্সটাইল কারখানায় অপারেটর পদে চাকরি করতেন। বেতনের টাকা স্বামীকে না দিলে তাকে প্রায়ই মারধর করতেন মিজান। গত এক সপ্তাহ যাবত মারুফাকে তার স্বামী ঘরের ভেতর তালা দিয়ে রাখতেন। তাকে কোথাও বের হতে দিতেন না, কারো সাথে কথা বলতে দিতেন না। জিজ্ঞাসা করলে বলতেন- মারুফা বাসায় নেই।
তিনি দাবি করেন, ঘটনার ৩-৪ দিন আগে মারুফাকে মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখেন মিজান। রোববার (৩ আগস্ট) ভোর ৩টার দিকে ঘরের আসবাবপত্রে আগুন দিয়ে বাহির থেকে ঘরে তালা দিয়ে স্বামী মিজানুর রহমান পালিয়ে যান। হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য তার স্বামী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাকে হত্যার পর আসবাবপত্রে আগুন লাগিয়ে মারুফা নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে অত্মহত্যা বলে প্রচার করার চেষ্টা করছিলেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল বারিক জানান, শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পোশাক শ্রমিক মারুফার লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।