অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল পিএসজি। হারের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতে নিলো শিরোপা। ইউরোপা সুপার কাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন তারা। নাটকীয় ফাইনালে হারিয়েছে টটেনহ্যামকে।
বুধবার রাতে ইতালির উদিনেতে অনুষ্ঠিত উয়েফা সুপার কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয় পিএসজি ও টটেনহ্যাম হটস্পার, যেখানে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয় পেয়েছে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা।
গত আসরে ট্রেবল জেতা প্যারিস সেন্ট-জার্মেই নতুন মৌসুমের শুরুতে আরো একটি ট্রফি ঘরে তুলেছে। বিপরীতে ৪১ বছর পর ইউরোপা লিগ জিতলেও সুপার কাপ ঘরে তুলতে পারেনি হটস্পাররা।
তবে হটস্পাররাই ছিল শিরোপা জয়ের পথে। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল তারা। টটেনহ্যাম সমর্থকরা যখন শিরোপা উল্লাসের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই সব এলোমেল করে দেয় পিএসজি।
অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা ছিল টটেনহ্যামের দখলে। তারা দাপুটে ফুটবল খেলে পিএসজিকে দিশেহারা করে তোলে। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। সুফলও মিলে দ্রুত।
৩৯ মিনিটে জোয়াও পালিনিয়ার নেয়া ভলি পিএসজি গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লাগে। তবে ফিরতি বল পেয়ে যান ফন দে ফেন। যা জালে পাঠাতে ভুল করেননি তিনি। টটেনহ্যামকে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অধিনায়ক রোমেরো। পেদ্রো পারোর ফ্রি-কিকে হেডে গোল করেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ও দু’টি কোপা আমেরিকা জয়ী এই ডিফেন্ডার।
২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণে খানিকটা ধার বাড়ায় পিএসজি। তবে ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে একবার টটেনহ্যামের জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
যখন মনে হচ্ছিল টটেনহ্যাম সহজেই শিরোপা ঘরে তুলবে, তখনই নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। নির্ধারিত সময়ের মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে গোল শোধ দেন লি কাং-ইন। জোরাল শটে ব্যবধান কমান তিনি।
এরপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে উসমান দেম্বেলের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন গঞ্জালো রামোস, যা পিএসজিকে অবিশ্বাস্যভাবে সমতায় ফেরায়, আর ম্যাচকে সরাসরি টাইব্রেকারে নিয়ে যায়।
এরপর টাইব্রেকারের রোমাঞ্চে জিতে প্রথমবারের মতো উয়েফা সুপার কাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরে পিএসজি। যদিও এখানেও শুরুটা ভালো হয়নি। পিএসজির প্রথম শট ভিতিনিয়া পোস্টে মেরে হতাশ করেন।
তবে জালের দেখা পান তাদের পরের চারজনই। বিপরীতে টটেনহ্যামের মিকি ফন দে ফেনের শট ঠেকান পিএসজির নতুন গোলরক্ষক লুকাহ শুভালিয়ে আর বল বাইরে মেরে বসেন মাথিয়াস তেল।