অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফ যেভাবে শেষ করেছিলেন মোসাম্মৎ সাগরিকা, ঠিক সেভাবেই তার শুরু এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলে। সাফে ৮ গোল দিয়ে সেরা খেলোয়াড় হওয়া এই স্ট্রাইকার বুধবার করলেন জোড়া গোল। সাথে মিডফিল্ডার মুনকি আক্তারের অপর গোল। এতে স্বাগতিক লাওসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘এএইচ’ গ্রুপ থেকে চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। গোল সংখ্যা আরো বাড়তো। যদি দু’টি চেষ্টা ক্রসবারে প্রতিহত না হতো। বুধবার গ্রুপের অপর ম্যাচে পূর্ব তিমুরকে ৯-০ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এই পূর্ব তিমুরের সাথেই আফঈদা খন্দকার প্রান্তিদের পরের ম্যাচ শুক্রবার (৮ আগস্ট)। এই প্রথম নারী ফুটবলে লাওসের বিপক্ষে জয়।
লাওসের ভিয়েনতিয়েনের লাও ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই কর্নার থেকে গোলের সুযোগ পায় বাংলাদেশ। তবে সাগরিকার হেড বিপক্ষ গোলরক্ষকের সোজা যাওয়ায় গোল হয়নি। ১১ মিনিটে লাওস গোলের সুযোগ পেলেও ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় রক্ষা। এরপর ৩৭ মিনিটে কর্নার থেকেই বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া। শান্তি মার্ডির কর্নার থেকে সাগরিকার হেড জালে। উল্লাসে মাতে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ৪১ মিনিটে অল্পের জন্য গোলবঞ্চিত পিটার জেমস বাটলার বাহিনী। সিনহা জাহান শিখার দূর পাল্লার শটে লাওসের গোলরক্ষক পরাস্ত হলেও বল ক্রসবারে প্রতিহত হয়।
১-০ তে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ দল। এরপর ৫৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করা। এবার তৃষ্ণা রানীর থ্রু পাস থেকে বলের দখল নেন মুনকি আক্তার। বক্সের ভেতর ডান পায়ের ড্রিবলিংয়ে তিনি পরাস্ত করেন বিপক্ষ ডিফেন্ডারকে। বাকি কাজটুকু করেছেন বিশ্বমানের কোনো ফুটবলারের মতো। ওই পজিশন থেকে যেকোনো ফরোয়ার্ড ডান পায়ে শট নিতেন গোলে। কারণ তিনি তখন প্রথম পোস্টের সামনে। লাওসের গোলরক্ষক তংসমুদও প্রথম পোস্টে। ওই অবস্থায় মুনকি ডান পায়ে শট নেননি পোস্টে। বলটি ডান পা থেকে বাম পায়ে নিয়ে আলতো টোকায় ওই প্রথম পোস্ট দিয়েই জালে পাঠান।
এতে মোটামুটি বাংলাদেশ দলের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ফিফা র্যাংকিংয়ে ১০৭-এ থাকা লাওস কাউন্টার অ্যাটাকে গোলের চান্স তৈরি করেও গোল পাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৮৭ মিনিটে আন্না কিও ডান পায়ের টোকায় বক্সের ঠিক ওপর থেকে স্বর্না রানী মন্ডলকে বোকা বানিয়ে খেলা জমিয়ে দেন। তবে সে টেনশনে আর থাকতে হয়নি সাগরিকার কল্যাণে। ৯২ মিনিটে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে ডান পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ঠাকুরগাঁওয়ের চা দোকানদার বাবার মেয়ে। এতে ৩-১ এ জয়। এর আগে তার হেড প্রতিহত হয় ক্রসবারে। তবে বাংলাদেশ কাল যে গোল খেয়েছে, তাতে বেস্ট রানার্সআপ হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।