পারল না বার্সেলোনা। পারেনি চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পৌঁছাতে। গত ১০ বছর ধরে বয়ে চলা অপেক্ষা বাড়ল আবারো। অন্যদিকে বহু বাঁকবদলের ম্যাচে শেষ হাসি ইন্টার মিলানের। নিশ্চিত করেছে ফাইনাল।
সান সিরোতে রোমাঞ্চে ঠাসা, পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনাল জিতে নিয়েছে ইন্টার মিলান। দ্বিতীয় লেগে ৪-৩ গোলে জিতে, সব মিলিয়ে ৭-৬ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে পা রেখেছে তারা।
গত সপ্তাহে ঘরের মাঠে প্রথম লেগ ৩-৩ গোলে ড্র হওয়ায় কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয় বার্সা। ২০১৫ সালের পর ফের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠতে হলে ইতিহাস বদলাতে হতো তাদের।
ইতিহাস বলছে, ইন্টার মিলান নিজেদের মাঠে কখনোই চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে হারেনি! তাছাড়া এই মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৯৭২ দিন অপরাজিত ইন্টার। শেষ ১৫ ম্যাচের ১২টিতেই জয় ও ৩টিতে ড্র করেছে তারা।
এমন কঠিন সমীকরণ সামনে রেখেই মঙ্গলবার রাতে মিলানের সান সিরোয় স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয় তারা। তবে ম্যাচে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে বার্সা। ২৩তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পেয়েই এগিয়ে যায় ইন্টার।
ডেনজেল ডামফ্রিসের থেকে বল পেয়ে গোল এনে দেন লাউতারো মার্তিনেস। কিছুই করার ছিল না বার্সা গোল রক্ষকের। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগে ফের গোল হজম করে সফরকারীরা।
৪২তম মিনিটে পাউ কুবার্সির বাধায় লাউতারো মার্তিনেস বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন করে ইন্টার। ভিএআর দেখে সেই আবেদনে সাড়া দেন রেফারি। সফল স্পট কিকে ব্যবধান বাড়ান কালহানোগলু।
২-০ তে পিছিয়ে থা বার্সেলোনা অবশ্য সেখানে থেমে যায়নি, বিরতির পর চমকে দেয় তারা। অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফেরে। ৫৪তম মিনিটে প্রথমে ব্যবধান কমায় বার্সা। জেরার্ড মার্তিনের ক্রসে জাল খুঁজে নেন এরিক গার্সিয়া।
আর ৬ মিনিট পরেই ম্যাচে ফেরে সমতা। সেই মার্তিনের ক্রসে দারুণ হেডে বল জালে পাঠান দানি ওলমো। ম্যাচ তখন ২-২, আর দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর ৫-৫ সমতা। জমে উঠে ম্যাচ।
তবে নাটকীয়তার তখনো বাকি। নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট বাকি থাকতে ৩-২ গোলে এগিয়ে যায় বার্সা। ৮৮ মিনিটে গোল করেন রাফিনিয়া। পেদ্রির থেকে বল পেয়ে প্রথম সুযোগে না পারলেও বদলি চেষ্টায় জড়ান জালে।
এই গোলের পর যখন মনে হচ্ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য গল্প লিখে জিততে চলেছে বার্সা, তখনই ফের বাড়ে উত্তেজনা। ডেনজেল ডামফ্রিসের ক্রস থেকে গোল করেন ফ্রান্সেসকো আচেরবি। ম্যাচে পুনরায় ৩-৩ সমতা।
সমতা ফেরায় সান সিরোর টইটম্বুর গ্যালারিও যেন প্রাণ ফিরে পায়। এদিকে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না আসায় ও দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৬ সমতা থাকায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
সেখানে মেহদী তারেমির পাস থেকে দারুণ এক গোলে ইন্টারকে জয় এনে দেন ফ্রাত্তেসি। ম্যাচের ৯৯তম মিনিটে ইন্টারকে ৪র্থ গোল এনে দেন তিনি। এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।
শেষ পর্যন্ত মরিয়া চেষ্টা চালিয়েও সমতা ফেরাতে পারেনি বার্সেলোনা। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেলেও দুর্দান্ত সব সেভে দলকে এগিয়ে রাখেন ইন্টার গোলরক্ষক ইয়ান সমের।
এই জয়ে ২০২৩ সালের পর আবার ইউরোপ সেরার মঞ্চে ফাইনালে জায়গা করে নিল ইন্টার। বিপরীতে এই হারে মৌসুমে বার্সেলোনার ট্রেবল জয়ের সম্ভাবনার ইতি ঘটল।