২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপে খেলেন লিওনেল মেসি। সেই থেকে এবারের আসর পর্যন্ত খেলে যাচ্ছেন। অন্য দিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের বিশ্বকাপ শুরু ২০১৮ সাল থেকে। বিশ্বকাপ ফুটবলে তাদের দেখা হয়েছিল দু’বার। ২০১৮ রাশির বিশ্বকাপে এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। প্রথমবার এমবাপ্পের গোল এবং ফ্রান্সের ৪-৩ গোলে জয়। ফলে রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় হয় আজেন্টিনার। আর কাতার বিশ্বকাপে এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক সত্ত্বেও ফাইনালে অর্জেন্টিনার কাছে হরের লজ্জ্বা পেতে হয়েছিল ফ্রান্সকে। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন মেসি। নিশ্চিতভাবেই বলা যায় এবারের বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের শেষ বিশ্বকাপ। অন্য দিকে ফ্রান্স যদি কোয়ালিফাই করে এবং ফিটনেস ও ফর্ম যদি অনুকূল থাকে তাহলে এমবাপ্পেকে দেখা যাবে আগামী বিশ্বকাপেও।
তবে এরই মধ্যে এবারের বিশ্বকাপ নতুন এখন লড়াইয়ে নিয়ে এসেছে দুই প্রজন্মের দুই তারকা ফুটবলাররেক। আর তা হলো কে সবার আগে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন। গত বিশ্বকাপের ফাইনালে যেমন দুজনে গোল পেয়েছেন, ঠিক এমনি এবারো প্রথম ম্যাচেই একাধিক গোলের দেখা দুই মহাতারকার। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল এমবাপ্পের। আর মেসির হ্যাটট্রিক আলজেরিয়ার বিপক্ষে।
বিকেলে নিউইর্য়ক নিউ জার্সির ম্যাট লাইফ স্টেডিয়ামে যখন এমবাপ্পের জোড়া গোল করলেন, তখন পাশে বসা ফরাসি সাংবাদিক তিতেউনা লরেন্তে। তিনি বারবারই বলছিলেন, আর ২টি গোল হলেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ ১৬ গোল করা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজেকে ছুয়ে ফেলবেন এমবাপ্পে। আর ৩টি হলেতো রেকর্ডই করা হবে এমবাপ্পের।
এই ফরাসি মিডিয়াকর্মীর মতো অনেকেরই মাথায় ছিল না সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় সকালে) আর্জেন্টিনার মেসি যদি ৩ গোল করেন তাহলে তিনিই চলে আসবেন ক্লোজের পাশে। ইন্টার মিয়ামির তারকা ঠিকই করে ফেললেন হ্যাটট্রিক। সাথে সাথে জার্মান তারকাটির ১৬ গোলে ভাগ বসালেন। বিপরীতে এমবাপ্পের গোল ১৪টি।
এখন ফরাসি ও আজেন্টাইন তারকার মধ্যে শুরু হয়েছে শীতল যুদ্ধ। কে আগে টপকাবেন ক্লোজাকে। কে গড়বেন রেকর্ড। মেসির আর ১টি গোল দরকার। আর এমবাপ্পেরে ৩ গোল। গ্রুপ পর্বেই মেসি ও এমবাপ্পে ২টি করে ম্যাচ পাচ্ছেন। আর্জেন্টিনার পরের দুই ম্যাচ অস্ট্রিয়া ও জর্দানের বিপক্ষে। অন্য দিকে ফ্রান্সের পরের খেলা ইরাক ও জর্দানের সাথে। দল দু’টি যদি গ্রুপ পর্ব ডিঙ্গিয়ে নক আউটে যায় তখন ম্যাচের সংখ্যা আরো বাড়বে।
এমবাপ্পের নামের পাশে এখন ১৪ গোল। রাশিয়া বিশ্বকাপে করেছিলেন ৪ গোল। কাতারে তার পা থেকে এসেছে ৮ গোল। আর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এখন পর্যন্ত ২ গোলে। অর্থাৎ তিন বিশ্বকাপেই গোল পেয়েছেন এমবাপ্পে। এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৫৮ গোল দিয়ে ফরাসিদের মধ্যে সবার উপরে এমবাপ্পে।
২০০৬ সাল থেকে বিশ্বকাপে উপস্থিতি মেসির। প্রথম আসরে ১ গোল। ২০১০ বিশ্বকাপে কোনো গোল পাননি ৫ ম্যাচে। সেবার তার ভাগ্যটা সহায় ছিল না। অবিশ্বাস্য ভাবে মিস হয়েছিল গোল। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে করেছিলেন ৪ গোল। রাশিয়া বিশ্বকাপে ১টি গোল। এরপর কাতারে ৭ গোল দিয়ে এবার এখন পর্যন্ত ৩ গোলের মালিক। মেসি যদি দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে গোল পেতেন তাহলে এই রের্কডটি তারই দখলে চলে যেতো এতদিনে।
মেসি-এমবাপ্পের সাথে এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দৌড়ে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেনও। তিন বিশ্বকাপ মিলে তার গোল ১০টি। রাশিয়া বিশ্বকাপে ৬ গোল দিয়ে গোল্ডেন বুট জেতা ব্রায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার কাতারে করেছিলেন ২ গোল। এবার গতকাল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল দিয়ে বিশ্বকাপে তার মোট গোল সংখ্যাকে উন্নীত করেন ১০-এ। আগামী ম্যাচগুলোতে তিনি যদি গোলের ধারায় থাকেন তাহলে তার পক্ষেও এই রেকর্ড গড়া সম্ভব।