ইতালি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার প্রস্তাব পাবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কার্লো আনচেলত্তি। তবে তিনি জানান, ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রতি নিজের অঙ্গীকারের কারণেই সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
একসময় আনচেলত্তির সতীর্থ ইতালির তৎকালীন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এসি মিলানে তার অধীনে খেলেছেন।
গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের মালদিনি জানান, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আনচেলত্তির সাথে ইতালির কোচের দায়িত্ব নেয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করেছিলেন।
বুধবার ইএসপিএনের সাংবাদিক পেদ্রো ইভো আলমেইদাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, এটি চুক্তির বিষয় নয়, সেটাই কারণ নয়।
তিনি বলেন, কারণ আমি ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এবং এই দেশের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রথম বছরেই এই দেশ আমাকে যে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে, তার জন্য আমি এখানে থাকতে চাই।
তিনি আরো বলেন, অবশ্যই আমি ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। কিন্তু আমি এখানে থাকতে চাই, কারণ যে দেশ আমাকে এত উষ্ণভাবে গ্রহণ করেছে এবং যে প্রতিষ্ঠান আমাকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে, তাদের সাথে থাকাই আমার কাছে সঠিক ও ন্যায্য বলে মনে হয়েছে।
আনচেলত্তির না বলার পর ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি) সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলাকেও প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তিনিও তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর আন্দ্রে পিরলোকে নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা রাশিয়ান বেটিং প্রতিষ্ঠান ফনবেটের সাথে স্পনসরশিপ চুক্তি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে ভেস্তে যায়।
শেষ পর্যন্ত সোমবার দ্বিতীয়বারের মতো ইতালির প্রধান কোচ হিসেবে রবার্তো মানচিনির নাম ঘোষণা করা হয়।
রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার এক বছর পর ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেয়া আনচেলত্তি গত মে মাসে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সাথে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছেন।
তার অধীনে ব্রাজিল ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেয়। নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয়ার পর ৬৭ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান কোচ বলেন, ব্রাজিলের সাথে তার কাজ এখনো শেষ হয়নি।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের ফল ভালো হয়নি। এতে সবাই হতাশ হয়েছে এবং আমরা সবাই দুঃখিত। কিন্তু অতীতের দিকে এক চোখে তাকিয়ে, অন্য চোখে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। কারণ আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা আশাবাদী। এই দেশে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অভাব নেই এবং তাদের নিয়ে আমরা ইতিবাচক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি।
আনচেলত্তি জানান, তিনি এখন নতুন চেহারার একটি দল গড়াার পরিকল্পনা করছেন, যেখানে কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের জায়গায় তরুণদের সুযোগ দেয়া হবে।
ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারও সেই বিদায়ী প্রজন্মের একজন। মঙ্গলবার তিনি জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে আনচেলত্তি বলেন, ইতিহাস বলে, একটি প্রজন্মের সমাপ্তি হয় এবং তার জায়গায় আরেকটি প্রজন্ম আসে। নতুন প্রজন্মকে আগেরটির চেয়েও ভালো হতে হবে।
এ্যালিসন বেকার, ক্যাসেমিরো, ডানিলো ও এ্যালেক্স সান্দ্রোর মতো ৩৩ বছর বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আনচেলত্তি বলেন, তাদের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি, তবে পরিবর্তন যে আসছে তা স্পষ্ট।
তিনি বলেন, আমাদের ধারণা, তাদের মধ্যে কেউ কেউ দলে থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের একটি নতুন চক্রের দিকে এগোতে হবে, আর সেই লক্ষ্যেই আমরা নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেবো।
তিনি আরো যোগ করেন, ‘এটি একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। অবশ্যই তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে হবে। তাদের সবার প্রতিই আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। সূত্র : বাসস