কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলা নিয়ে উত্তেজনার জেরে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে ভারত-পাকিস্তান। যার প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। বিশেষ করে দু’ দেশে চলতে থাকা আইপিএল ও পিএসএল এখন হুমকির মুখে।

যুদ্ধের মাঝেই দু’ দেশে চলছে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ। পাকিস্তানে চলছে পিএসএল, ভারতে চলছে আইপিএল মহাযজ্ঞ। আইপিএলে বাংলাদেশের কেউ না থাকলেও পিএসএলে খেলছেন রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানা।

লাহোর কালান্দার্সের হয়ে রিশাদ আর নাহিদ খেলছেন পেশাওয়ার জালমির হয়ে। তবে এমন সঙ্ঘাতময় সময়ে তাদের পাকিস্তানে অবস্থান করা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে সমর্থকদের মনে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা।

তবে এখন পর্যন্ত ভালো আছেন এই দু’ টাইগার ক্রিকেটার। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের নিরাপত্তার জন্য যোগাযোগ রেখেছেন পিসিবি ও পাকিস্তান হাইকমিশনের সাথে।

বিপরীতে রিশাদ-নাহিদ রানাও জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানে তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

এমনকি বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া দু’টি পোস্টেও রিশাদ তেমনটাই জানান।

তবে এর মাঝেই ঘটেছে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনা। পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কাছে বিকেলের দিকে একটি ভারতীয় ড্রোন হামলে পড়েছে। এ ঘটনায় দু’জন আহত হয়েছেন।

অথচ আজ রাওয়ালপিন্ডিতেই অবস্থান করছেন নাহিদ রানা। রাতেই রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামেই করাচি কিংসের মুখোমুখি হবার কথা ছিল তার দল পেশোয়ার জালমির। তবে এ ঘটনার পর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ম্যাচের ভাগ্য।

এমনকি শুক্রবার (৯ মে) এ মাঠেই মুখোমুখি হবার কথা ছিল রিশাদের দল লাহোর কালান্দার্স ও নাহিদ রানার দল পেশোয়ার জালমির। ম্যাচকে সামনে রেখে দু’জনেই এ মুহূর্তে অবস্থান করছেন রাওয়ালপিন্ডিতে।

তবে সেখানে আপাতত আর পিএসএলের কোনো ম্যাচ হচ্ছে না তা অনেকটাই নিশ্চিত। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা জানিয়েছে, কে পিএসএলের দশম আসরের বাকি ম্যাচগুলো সরিয়ে নেয়া হতে পারে করাচিতে।

এদিকে শোনা যাচ্ছে, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় বিদেশী ক্রিকেটাররা। সূত্র জানিয়েছে, পিসিবি কর্মকর্তাদের সাথে এ নিয়ে বৈঠক করেছেন টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়া বিদেশী ক্রিকেটাররা।

কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করলেও তাতে ক্রিকেটাররা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। পিএসএল ছাড়তে চেয়েছেন অনেকেই। অনেকেই পাকিস্তানের বাইরে, বিশেষ করে দুবাইতে টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেয়ার দাবি তুলেছেন।

বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, নাহিদ ও রিশাদও নাকি দেশে ফিরতে চেয়েছেন। ইতোমধ্যে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যতটা সম্ভব দ্রুত সময়ে ফেরত আনা হবে তাদের।

এখন এমতাবস্থায় কীভাবে বিষয়টা সামাল দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, তাই দেখার বিষয়।