অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন রিশাদ-নাহিদরা, একটু এদিক সেদিক হলেই বিশ্বক্রিকেটে নেমে আসতো বিষাদের ছাঁয়া। তবে স্বস্তির খবর কোনো সমস্যা ছাড়াই দুবাইয়ে পৌঁছেছেন তারা।
পাকিস্তানে পিএসএল খেলতে গিয়ে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে আটকা পড়েন বাংলাদেশের রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানাসহ প্রায় ৪০ জন বিদেশী ক্রিকেটার। পরিবার ও স্টাফসহ সংখ্যাটা আরো বেশি।
টুর্নামেন্ট শেষ না হলেও ভারতের সাথে সংঘাতের জেরে মাঝপথেই পিএসএল স্থগিত করতে বাধ্য হয়ে পিসিবি। এমন অবস্থায় বিদেশী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ বিমানে দ্রুত দুবাইয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করে পিসিবি।
শুক্রবার রাতে দুবাই পৌঁছান সবাই। পাকিস্তান ছেড়ে এসে কতটা স্বস্তি পেয়েছেন ক্রিকেটাররা, তা বুঝা যায় একটা ভিডিও থেকে। দেখা যায়, বিমান পাকিস্তানের সীমারেখা অতিক্রম করতেই সবাইকে হেসে উঠতে। আর দুবাইয়ে বিমান পৌঁছানোর পর আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠেন সবাই। নিঃশ্বাস নিতে থাকেন প্রাণভরে।
খুব আতঙ্কের মাঝেই পাকিস্তান ছেড়ে এসেছেন রিশাদ-ওয়ার্নাররা। ভয় আরো বেড়ে যায়, যখন শোনা যায় তাদের বহনকারী বিমান উড়াল দিতেই মিসাইল হামলা হয়েছে!
জানা যায়, বিদেশী ক্রিকেটারদের নিয়ে বিমান উড়াল দেয়ার ২০ মিনিট পরই পাকিস্তানের তিনটি বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত। যার একটি হচ্ছে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটি, যা দেশটির সামরিক সদর দফতর। আর এখান থেকেই হামলার কিছুক্ষণ আগে বিশেষ বিমানে করে দুবাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন পিএসএল খেলতে আসা বিদেশী ক্রিকেটাররা। বলা যায়, বড় বিপদ থেকেই রক্ষা পেয়েছেন ক্রিকেটাররা।
এসময় সাথে থাকা এক বাংলাদেশী সাংবাদিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে রিশাদ বলেন, ‘যখন শুনেছি টেকঅফ করার ২০ মিনিট পরে মিসাইল পড়েছে এয়ারপোর্টে। শোনার পর একটু খারাপ লাগছে এবং ভয়ও লাগছিল। দুবাই আসার পরে একটু স্বস্তি ফিরছে আলহামদুলিল্লাহ।’
এই সময় রিশাদ জানান বিমানে থাকা অন্য বিদেশীদের অবস্থাও। জানান আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন সবাই। এমনকি দুবাইয়ে নামার পর নিউজিল্যান্ডের ড্যারিয়েল মিচেল না কি বলেছেন জীবদ্দশায় তিনি আর পাকিস্তানে যাবেন না!
রিশাদ বলেন, ‘আসলে বিদেশী যারা ছিল স্যাম বিলিংস, ড্যারিল মিচেল, কুশল পেরেরা, ডেভিড ভিসা এবং টম কারান। আমার মনে হয় ওরা এত আতঙ্কে ছিল যে এখনই যেতে পারলে বাঁচে আরকি। দুবাইয়ে নামার পরে ড্যারিল মিচেল বলছে আমি জীবনে আর পাকিস্তানে আসব না। অনেক আতঙ্কে ছিল ওরা।’