লিটন দাস অধিনায়ক হবেন, তা অনুমেয়ই ছিল। তবে বড় চমক হয়ে এসেছে শেখ মেহেদী সহ-অধিনায়ক হওয়ার খবর। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও তিনি। সংবাদ সম্মেলনেও ছিল এই নিয়ে নানা প্রশ্ন।

চলতি মাসেই আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এই দুই সিরিজকে সামনে রেখে আজ (রোববার) ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি।

যেখানে আসন্ন সিরিজ থেকে শুরু করে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন লিটন দাস। আর সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে শেখ মেহেদী হাসানকে। তবে তার মেয়াদ আপাতত এই দুই সিরিজ পর্যন্ত।

স্বল্প মেয়াদ হলেও শেখ মেহেদীকে সহ-অধিনায়ক করাটা বড় বিস্ময় হয়ে এসেছে। জাতীয় দল তো দূরে থাক, ঘরোয়া ক্রিকেটেও কখনো এমন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নেই মেহেদীর। ফলে একের পর এক প্রশ্ন ছুটে গেল বোর্ড কর্তাদের দিকে।

এই প্রসঙ্গে ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেন, 'যে দলটা এই মুহূর্তে আছে, সেখানে খুব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় কিন্তু কম। তবে মেহেদী টি-টোয়েন্টি সংস্করণে একরকমের নিয়মিত খেলোয়াড়।’

‘তার যে অভিজ্ঞতা আছে, ওর যে ট্যাকটিক্যাল জ্ঞান আছে, সেটা প্রায়শই দেখতে পাই। সেটা আমাদের চোখে পড়েছে, সেটা নিয়ে আমরা নির্বাচকরা বলুন কিংবা কোচ বলুন কিংবা অন্যান্য যারা আছেন, সবার সাথেই আলোচনা করেছি।’

‘আমাদের মনে হয়েছে, এই মুহূর্তে যদি তাকে সুযোগটা দেই, তাহলে দেখতে পারব সেটা সে কীভাবে প্রয়োগ করে’, যোগ করেন ফাহিম।

এদিকে মেহেদীর মেয়াদকাল নিয়ে ফাহিম বলেন, ‘কেবল সামনের সিরিজগুলোর জন্য সহ-অধিনায়ক করেছি। ইচ্ছা আছে, আমরা বিভিন্ন জনকে দেখার চেষ্টা করব। একজন অধিনায়কের অধীনে আরেকজন অধিনায়ককে গড়ে তোলার চেষ্টা থাকবে।’

‘হয়তো আমরা দুই-তিনজনকে যাচাই করব। তাদের মধ্যে থেকে কেউ না কেউ হয়তো বেরিয়ে আসবে। তাকেই হয়তো আমরা পরবর্তীতে অধিনায়ক হিসেবে চালিয়ে যাব।’

শেখ মেহেদীর পৌষ মাসে সর্বনাশ হয়েছে মেহেদী মিরাজের। টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। তবে তাকে নিয়েও বিসিবির স্পষ্ট পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচকেরা।

উল্লেখ্য, জাতীয় দলের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ৫৪ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন শেখ মেহেদী। যেখানে ৬.৫৩ ইকোনমিতে ৪৬ উইকেটের পাশাপাশি ব্যাট হাতে ১২.৯২ গড় ও ১০১.৬৮ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ৩৬২।