অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যক্তিগত সাফল্যের ঝলক দেখালেও দল হিসেবে এখনো ছন্দে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে চাপে সফরকারীরা।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৬৩ রানের জবাবে স্বাগতিক দল অলআউট হয় ৩৫৫ রানে। ফলে ৯২ রানের লিড নেয় স্বাগতিকরা। তববে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯ রান তুলতেই ২ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। দিনশেষে এখনো ৭৩ রানে পিছিয়ে টাইগাররা।

বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন হাসান মাহমুদ। আগের দিনের একটি উইকেটের সাথে দ্বিতীয় দিনে আরো তিনটি উইকেট নেন তিনি। সব মিলিয়ে মাত্র ৪২ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন এই ডানহাতি পেসার।

ভালো ছন্দে ছিলেন তাসকিন আহমেদও। ১৫ ওভারে ৪ মেডেনসহ ৫৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। আগের দিন ব্যাট হাতে অপরাজিত সেঞ্চুরি করা মেহেদী হাসান মিরাজ বল হাতেও অবদান রাখেন। তুলে নেন ২ উইকেট।

তবে বাকি পেসারদের ব্যয়বহুল বোলিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় সংগ্রহ গড়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। ইবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদ একটি করে উইকেট পেলেও রান খরচ করেছেন অনেক।

আর তাইজুল ইসলামের আঙুলে হালকা চোট থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে বোলিং করানো হয়নি। তার বদলি হিসেবে বল হাতে সুযোগ পাওয়া মুশফিক হাসান ৪ ওভারে ৩৮ রান দিলেও উইকেটের দেখা পাননি।

দিনের শুরুতেই জশ ফিলিপকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেন হাসান মাহমুদ। এরপর কার্টিস প্যাটারসন (৫৩) ও জ্যাক ক্লেটনের (৪৮) জুটি ভাঙেন ইবাদত। পরে প্যাটারসনকেও ফেরান হাসান। ১৩৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল স্বাগতিকরা।

কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন টিগ ওয়াইলি ও জেক ডোরান। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের ১৫৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। ওয়াইলি ১৭৭ বলে ১৩০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, আর ডোরান করেন ৭৬ রান।

শেষ পর্যন্ত ওয়াইলিকে ফিরিয়ে ইনিংসের ইতি টানেন খালেদ আহমেদ। তবে ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে ঢের। বড় লিড পেয়ে গেছে অজিরা।

বড় লিডের জবাব দিতে নেমেও স্বস্তি পায়নি বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারেই ৬ রান করে বিদায় নেন সাদমান ইসলাম। এরপর মুমিনুল হক আউট হন মাত্র ৬ রান করে। প্রথম ইনিংসেও তিনি করেছিলেন মাত্র ১৬ রান। দিন শেষে ১৩ বলে ৭ রানে অপরাজিত আছেন তানজিদ হাসান।

প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের অপরাজিত সেঞ্চুরি ও দ্বিতীয় ইনিংসে হাসান মাহমুদের চার উইকেট—এই দুটি ব্যক্তিগত সাফল্য ছাড়া প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো খুব বেশি কিছু নেই।

বিশেষ করে টপ অর্ডারের ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও অন্য পেসারদের খরুচে বোলিং টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন ম্যাচের শেষ দিনে বড় জুটি গড়ে লড়াই-ই আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে ব্যাটারদের।