ইতহাস গড়ল নেপাল। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট খেলুড়ে দলকে হারিয়েছে তারা। হারিয়ে দিয়েছে দু’বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) শারজাহতে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৯ রানে হারায় নেপাল। এই জয়ে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম অঘটনের জন্ম দিলো দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান দলটি।

এদিন আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান সংগ্রহ করে নেপাল। জবাবে পুরো ২০ ওভার ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

যেকোনো ফরম্যাটেই আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে এটাই নেপালের প্রথম জয়। যদিও ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানকে হারিয়েছিল তারা, তবে তখন আফগানিস্তান টেস্ট মর্যাদা পায়নি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটিই ছিল নেপালের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, একইসাথে প্রথম কোনো পূর্ণ সদস্য দলের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজও। সেই মঞ্চটা স্মরণীয় করে রাখল হিমালয়ের দেশটি।

দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এই জয়ের নায়ক নেপালের অধিনায়ক রোহিত পাউড়েল। ব্যাটিংয়ে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৫ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। বল হাতে ২০ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।

অবশ্য টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলে তারা। সেখান থেকে ৪৫ বলে ৫৯ রানের জুটিতে দলকে টানেন রোহিত ও কুশাল মাল্লা। ২১ বলে ৩০ রান করেন মাল্লা।

পরে গুলসান ঝা (১৬ বলে ২২) ও দিপেন্দ্রা সিং আইরির (১৯ বলে ১৭) অবদানে দেড় শ’র কাছে যেতে পারে নেপাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৪ উইকেট নেন জেসন হোল্ডার।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাটিংয়ে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেনি কেউ। ৯৪ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে ক্যারিবীয়রা। আমির জাঙ্গু ১৯, আকিম অগুস্তে ১৫, কেসি কার্টি ১৬ ও বিদাইসি ২২ রান করে বিদায় নেন।

শেষ দিকে ফাবিয়ান অ্যালেন ও আকিল চেষ্টা করলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না। অ্যালেন ১৪ বলে ১৯ ও অধিনায়ক আকিল হোসেন ৯ বলে ১৮ রানের ক্যামিও ইনিংসে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নেপালের বোলিংয়ে পেরে ওঠেননি তারা।

১৭ রানে সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নেন নেপালের কুশল ভুরটেল। একটি করে নেন দীপেন্দ্র সিং এইরি, কারান কেসি, নন্দন যাদব, ললিত রাজবংশি ও রোহিত পাউদেল।

এখন সিরিজ জয়ের হাতছানিতে সোমবার দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবেন রোহিত-ভুর্তেলরা।