ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রভাব বেশ ভালোই পড়েছে ক্রিকেটে। দুই দেশে চলতে থাকা দুই ফ্রাঞ্চাইজি লিগ আইপিএল ও পিএসএল পড়েছে ভীষণ চাপে। আসরের মাঝামাঝি এসে নিতে হচ্ছে নতুন সিদ্ধান্ত।

দুই দেশের বৈরী মনোভাব অনেক আগেই ক্রিকেটকে ছুঁয়ে গেছে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দুই দলের দেখা হয় না বললেই চলে। তবে এবারের যুদ্ধ সবকিছু যেন ছাপিয়ে গেছে। যার রেশ ছুঁয়েছে আইপিএল, পিএসএলেও।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামের কাছে ড্রোন হামলার জের ধরে পরিত্যক্ত হয় পিএসএল-এর দু’টি ম্যাচ।

আজ শুক্রবার খেলা মাঠে গড়ানো নিয়েও আছে শঙ্কা। পরিস্থিতি বিবেচনায় পিএসএল ইতোমধ্যেই স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

পিসিবি জানিয়েছে, লিগ পর্বের বাকি ম্যাচসহ প্লে অফ ও ফাইনাল ম্যাচ মাঠে গড়াবে আরব আমিরাতে। আজ (শুক্রবার) এই বিবৃতিতে এমনটাই জানায় সংস্থাটি।

অন্যদিকে শঙ্কার মুখে আইপিএলও। ইতোমধ্যে কয়েকটি ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তনের পর বৃহস্পতিবার রাতে নিরাপত্তা শঙ্কায় ম্যাচ চলাকালীন সময়ে খেলা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিত্যক্ত হয় পাঞ্জাব কিংস-দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচ।

গেল বৃহস্পতিবার পাঞ্জাব কিংস-দিল্লি ক্যাপিটালসের ম্যাচের যখন ১০.১ ওভারের খেলা চলছিল, তখন হঠাৎ নিভে যায় ধর্মশালা স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট। এরপর জানা যায় ম্যাচ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে দর্শকদের মাঠ ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। কেননা বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসতে থাকে, রাত ৯টার কিছুক্ষণ আগে জম্মুসহ সীমান্তবর্তী ভারতের কয়েকটি জায়গায় মিসাইল হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।

নিরাপত্তা শঙ্কায় আইপিএল কর্তৃপক্ষ ক্রিকেটারদের সরিয়ে নিতে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই)। এমনকি আইপিএলের ভাগ্য নিয়েও সন্দিহান তারা। আজ (শুক্রবার) জরুরি সভা ডেকেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

বিসিসিআই সহ-সভাপতি রাজিব শুক্লা এক বিবৃতিতে এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘ম্যাচটি বাতিল করা হয়েছে ও স্টেডিয়াম খালি করা হয়েছে। আমরা একটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করছি, যা ধরমশালা থেকে খুব বেশি দূরে নয়।’

আইপিএলের ভাগ্য নিয়ে শুক্লা বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আমরা শুক্রবার টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’