নতুন বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই নতুন বইয়ের গন্ধে মুখর হয়ে উঠেছে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ঝকঝকে চার রঙের পাঠ্যবই হাতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা। বই উৎসবের আমেজে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দেখা গেছে, প্রাণখোলা হাসি ও উচ্ছ্বাস। নতুন বই উল্টেপাল্টে দেখে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে নতুন বছরের প্রত্যাশা ও আনন্দ।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে। ১৭ উপজেলার চার হাজার ২০৪টি সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই বই বিতরণ করা হয়েছে। জাতীয় শোক দিবসের কারণে উৎসবের আয়োজন করা হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের নতুন বই ঘিরে উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার পাল বলেন, কুমিল্লা জেলার সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সাড়ে ৩১ লাখ বই বিতরণ করা হয়েছে।

মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, গতকাল শিক্ষাবছরের প্রথম দিন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ছাত্রছাত্রীর হাতে তুলে দেয়া হয়েছে নতুন বই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুর রহমান মুরাদনগর নুরুন্নাহার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মুরাদনগর ডি আর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের নতুন বই তুলে দেন।

পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলায় বছরের প্রথম দিনে চার হাজার ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন বই পেল জেলার সরকারি-বেসরকারি ২৪ লাখ ৯২ হাজার ৮২ প্রারাইমারির শিশু শিক্ষার্থী।

গতকাল বৃহস্পতিবার পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, আনোয়ারা, বোয়ালখালী কর্ণফুলী উপজেলাসহ সমগ্র জেলায় সরকারি, পরীক্ষণ, এনজিও, কেজি, আনরেজিস্ট্রার্ড বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বই বিতরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস এম আবদুর রহমান।

রংপুর ব্যুরো জানান, রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসব না হলেও রংপুর বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্রেণিকক্ষে কক্ষে বই বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই প্রত্যেকটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়েছেন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সব বই এলেও নবম শ্রেণীর এসেছে মাত্র ছয়টি বই। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব বই সবার কাছে পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, গতকাল সকালে ঢাকার সাভারের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন। উৎসবের আমেজ না থাকলেও নতুন বইয়ের ঘ্রাণে শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা গেছে। অভিভাবকরাও বছরের প্রথম দিনে বই পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিন সাভার পৌর এলাকার ৬১ নম্বর রেডিওকলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষিকা শিখা রানীর তত্ত্বাবধানে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নতুন বছরের প্রথম দিন বই দেয়ার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন।

পোরশা (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, শোক দিবসের সাথে সঙ্গতি রেখে নওগাঁর পোরশায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হয়েছে। সকাল ১০টায় নিতপুর দিয়াড়াপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করেন ইউএনও রাকিবুল ইসলাম।

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, রাঙ্গামাটিতে বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ করেছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। সকালে রাঙ্গামাটি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিউ রাঙ্গামাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আল-আমিন ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মডেল মাদরাসায় পৃথক আয়োজনে বই বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের তিন হাজার ৫৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরের প্রথম দিনে ৫০ লাখ ২৪ হাজার ৪২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। জেলার ১২টি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে দুই হাজার ৩৩৩টি এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে এক হাজার ২১৭টি। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে ১২ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৩টি বইয়ের ঘাটতি রয়েছে।

জানা যায়, জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ের এক হাজার ৬২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচটি শিশুকল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৭০৫টি কিন্ডারগার্টেনে মোট ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৬৭৬টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে সবগুলো বই পাওয়া গেছে এবং তা বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে এক হাজার ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে বইয়ের চাহিদা ছিল ৪৬ লাখ ১৪ হাজার ৩৩৫টি। এর মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫২টি বই এবং তা বিতরণও করা হয়েছে। বাকি ১২ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৩টি বই এখনো পাওয়া যায়নি।