চীনের সুপারকম্পিউটার হ্যাক, বিপুল সামরিক গোপন নথি ফাঁস

Printed Edition

সিএনএন

চীনের একটি রাষ্ট্রীয় সুপারকম্পিউটার থেকে প্রতিরক্ষা খাতের অত্যন্ত গোপনীয় নথিপত্র এবং মিসাইলের নকশাসহ বিশাল তথ্য ভাণ্ডার চুরির অভিযোগ উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি চীনের ইতিহাসে অন্যতম বড় তথ্য চুরির ঘটনা। হ্যাকাররা দাবি করেছে, তারা তিয়ানজিনের ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টার থেকে প্রায় ১০ পেটাবাইট সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। এই কেন্দ্রটি চীনের ছয় হাজারেরও বেশি উন্নত বিজ্ঞান ও প্রতিরক্ষা সংস্থাকে সেবা দিয়ে থাকে।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফ্লেমিংচায়না নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি টেলিগ্রামে এই চুরির কিছু নমুনা প্রকাশ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, এই তথ্যের মধ্যে মহাকাশ প্রকৌশল, সামরিক গবেষণা, বায়োইনফরমেটিক্স এবং ফিউশন সিমুলেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের নথি রয়েছে। হ্যাকাররা এই তথ্য বিক্রির জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লাখ লাখ ডলার দাবি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হ্যাকাররা অত্যন্ত সহজে এই সুপারকম্পিউটারে প্রবেশ করেছিল এবং কয়েক মাস ধরে কোনো শনাক্তকরণ ছাড়াই তথ্যগুলো সরিয়ে নিয়েছে। তারা একটি দুর্বল ভিপিএন ডোমেইন ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং এরপর একটি বটনেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রায় ছয় মাস ধরে ধাপে ধাপে তথ্যগুলো ডাউনলোড করেছে। ফাঁস হওয়া নমুনার মধ্যে চীনা ভাষায় গোপন চিহ্নিত বিভিন্ন নথি, বোমার সিমুলেশন এবং মিসাইলের কারিগরি নকশা দেখা গেছে।

এই ঘটনাটি চীনের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর গভীর দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও চীনের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরেই নড়বড়ে। এমনকি ২০২১ সালেও প্রায় ১০০ কোটি চীনা নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে অরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। চীন সরকার নিজেই তাদের ২০২৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত শ্বেতপত্রে সাইবার নিরাপত্তাকে একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে স্বীকার করেছে এবং এটি শক্তিশালী করার কথা বলেছে। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে এই তথ্য চুরি চীনের জন্য বড় এক ধাক্কা। এক দিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইল কেন্দ্রিক যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ছে, অন্যদিকে এই ধরনের ডিজিটাল যুদ্ধ পরাশক্তিগুলোর সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এমনকি হাউছি বিদ্রোহীদের কার্যক্রম যেমন বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে, চীনের এই সামরিক তথ্য ফাঁস তেমনি বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। যুদ্ধের ময়দানে লাশের সারি আর হাজার হাজার মানুষের বন্দী হওয়ার খবরের মধ্যে এই ধরনের সাইবার হানা প্রমাণ করে যে, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তাই যেকোনো দেশের প্রধান শক্তি।