সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের স্বীকারোক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপের ভয়াবহ চিত্র

Printed Edition
onno-2
পিটার সিচেলে

দ্য গার্ডিয়ান

নিউ ইয়র্কের সামাজিক মহলে তিনি ‘ইহুদি জেমস বন্ড’ নামে পরিচিত ছিলেন। নাৎসি জার্মানি থেকে পালিয়ে আসা এই শরণার্থী আমেরিকার প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং মাত্র ২০ বছর বয়সে বার্লিনে সিআইএর প্রথম স্টেশন চিফ হন। ২০২৫ সালে ১০২ বছর বয়সে মারা যাওয়া সেই পিটার সিচেলের জীবন নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপের ভয়াবহ পরিণতির কথা।

তথ্যচিত্রটিতে দেখা যায় সিচেল সিআইএর কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে ১৯৫৩ সালে ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে সিআইএ ও ব্রিটিশ এমআইসিক্সের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন তিনি। সিচেল বলেন মোসাদ্দেককে সরিয়ে না দিলে ইরান আজ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হতে পারত। শাহর স্বৈরশাসনকে সমর্থন দেয়ার কারণেই দেশটিতে বিপ্লব ঘটে এবং পরবর্তীতে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান হয় যা পরোক্ষভাবে বর্তমান সঙ্ঘাতের জন্য দায়ী।

সিচেল জানান নীতিনির্ধারকরা তাদের পছন্দের ছকে যখন গোয়েন্দা তথ্য মেলাতে পারেন না তখন তারা সঠিক তথ্য বিশ্বাস করেন না। এই মানসিকতার কারণে আমেরিকা বিশ্বজুড়ে অনেক জাতীয়তাবাদী নেতাকে সোভিয়েত পুতুল মনে করে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। এর ফলে কোনো সমাধান আসার বদলে বরং সঙ্ঘাত আরো বেড়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন আমরা আসলে অনেক মানুষের প্রাণ নষ্ট করেছি এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব না বুঝেই আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেছি।পিটার সিচেল তার গোয়েন্দা ক্যারিয়ারে সোভিয়েত ইউনিয়নের গতিবিধি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছিলেন এবং বার্লিনে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। তবে সংস্থাটির হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে পোল্যান্ড ইউক্রেন ও আলবেনিয়ায় অনেক মার্কিন অপারেটর প্রাণ হারান যা তাকে ব্যথিত করেছিল। ১৯৬০ সালে তিনি সিআইএ থেকে অবসর নিয়ে পারিবারিক মদের ব্যবসায় যোগ দেন এবং সেখানেও ব্যাপক সাফল্য পান।

বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে যেখানে ইসরাইল ও ইরানের সঙ্ঘাত নতুন মাত্রা নিয়েছে এবং হাউছি সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা বাড়ছে, সেখানে সিচেলের এই স্বীকারোক্তি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি মনে করতেন আমেরিকাকে ভালো ও মন্দের বিভাজন ছেড়ে জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝতে হবে। নির্বিচারে হামলা বা হস্তক্ষেপের ফলে কেবল লাশের মিছিল দীর্ঘ হয় এবং বন্দী পরিস্থিতির মতো জটিলতা তৈরি হয় যা দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকার স্বার্থের বিরুদ্ধেই যায়।