কুরআন ছুঁয়ে শপথ নিলেন জোহরান মামদানি

Printed Edition
Int-1
নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস (বামে) নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে (মাঝে) শপথবাক্য পাঠ করাচ্ছেন, পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর স্ত্রী রামা দুয়াজি : ইন্টারনেট

আলজাজিরা

জোহরান মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম এবং কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে তরুণ মেয়র। ডেমোক্র্যাট মামদানি বৃহস্পতিবার ভোরে ম্যানহাটনের একটি ঐতিহাসিক; কিন্তু বন্ধ হয়ে যাওয়া সাবওয়ে স্টেশনে শপথ নেন। তিনি কুরআনের ওপর হাত রেখে শপথ গ্রহণ করেন।

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় পুরনো সিটি হল স্টেশনে, যা শহরের প্রথম দিককার সাবওয়ে স্টেশনগুলোর একটি এবং এর চমৎকার খিলানযুক্ত ছাদের জন্য পরিচিত। দুপুরে সিটি হলে আরো বড় পরিসরে আবার শপথ নেন মামদানি। এবার শপথ পড়ান মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, যিনি মামদানির রাজনৈতিক অনুপ্রেরণাদের একজন। এরপর ব্রডওয়ের বিখ্যাত ‘ক্যানিয়ন অব হিরোজ’ এলাকায় জনসাধারণের জন্য ব্লক পার্টি আয়োজন করা হয়। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মামদানি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নজরকাড়া রাজনীতিকদের একজন হয়ে উঠেছেন।

তিনি শুধু প্রথম মুসলিম মেয়রই নন, বরং নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্ম নেয়া মেয়র। ৩৪ বছর বয়সে তিনি কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে তরুণ মেয়র। তার নির্বাচনী প্রচারণায় ‘সাশ্রয়ী জীবনযাপন’ শব্দটি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে রূপান্তরমূলক পদক্ষেপ নেবেন। তার ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে শিশু যতœ, বিনামূল্যে বাস সেবা, প্রায় ১০ লাখ পরিবারের জন্য ভাড়া স্থগিত রাখা এবং শহর পরিচালিত মুদি দোকানের পরীক্ষামূলক প্রকল্প। তবে তাকে শহরের দৈনন্দিন সমস্যাও সামলাতে হবে। আবর্জনা, তুষার, ইঁদুর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাবওয়ে বিলম্ব ও সড়কের গর্তের দায়ও তার ওপর পড়বে।

ট্রাম্পের সাথে টানাপড়েন

মামদানিকে এখন মোকাবেলা করতে হবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন মামদানি জিতলে শহরের ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করে দেবেন। এমনকি ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর কথাও বলেন এবং মামদানিকে দেশ থেকে বহিষ্কারের ইঙ্গিত দেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে মামদানিকে ‘১০০ শতাংশ কমিউনিস্ট উন্মাদ’ বলে আখ্যা দেন। তবে পরে ট্রাম্প সবাইকে অবাক করে হোয়াইট হাউসে মামদানিকে আমন্ত্রণ জানান। নভেম্বরের সে বৈঠক ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ।

ট্রাম্প বলেন, আমি চাই তিনি ভালো কাজ করুন এবং আমি তাকে ভালো কাজ করতে সাহায্য করব। সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প এমনকি মামদানির পক্ষেও কথা বলেন। এক সাংবাদিক মামদানিকে জিজ্ঞেস করেন তিনি কি এখনো ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট মনে করেন। তখন ট্রাম্প নিজেই বলেন, ঠিক আছে, আপনি এটা বলতে পারেন। এটা সহজ। তবুও দু’জনের মধ্যে টানাপড়েন রয়ে গেছে। বৈঠকের পর মামদানি বলেন, তিনি এখনো ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট মনে করেন।

মামদানি জন্মগ্রহণ করেন উগান্ডার কাম্পালায়। তার মা চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং বাবা লেখক ও অধ্যাপক মাহমুদ মামদানি। সাত বছর বয়সে তিনি পরিবারের সাথে নিউ ইয়র্কে চলে আসেন। ২০১৮ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি শহরের বিভিন্ন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর প্রচারণায় কাজ করেছেন। ২০২০ সালে তিনি নিউ ইয়র্কের কুইন্সের একটি আসনে রাজ্য অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। তবে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার সময় তার পরিচিতি ছিল সীমিত; কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বার্তা দিয়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে দু’বার হারান। প্রথমে জুনে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন এবং পরে নভেম্বরে মূল নির্বাচনে জয় পান।