মোবাইল ফোনের ওপর করহার কমানো হলো

Printed Edition

জাতীয় নগর নীতি ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন

বিশেষ সংবাদদাতা

মোবাইল ফোন আমদানি ও উৎপাদন খাতে কাস্টমস ডিউটি ও ট্যাক্স কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নতুন বছরে উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দেশীয় মোবাইল শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং গ্রাহকদের জন্য হ্যান্ডসেটগুলো আরো সাশ্রয়ী করার ল্েয এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান।

রাজধানীর হেয়ার রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, মোবাইল ফোন আমদানির েেত্র আগের ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি বর্তমানে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারীদের জন্য কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে করা হয়েছে।

উপদেষ্টা পরিষদে জাতীয় নগর নীতি ২০২৫-এর খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে। এটি নগরবাসীর প্রত্যাশিত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর উন্নয়নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদপে। এ বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশ শহরাঞ্চলে বাস করে, যারা জিডিপিতে ৬২ শতাংশ অবদান রাখে। বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ নিয়েও আলোচনা হয়।

মোবাইল ফোনের কর কমানো প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের ওপর সামগ্রিক করের পরিমাণ ৬১.৮০ শতাংশ থেকে কমে ৪৩.৪৩ শতাংশে নেমে আসবে, স্থানীয়ভাবে তৈরি ফোনের জন্য করের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

তিনি বলেন, সরকার আশা করে যে এসব পদপে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন শিল্পকে সম্প্রসারিত করবে, স্থানীয় উৎপাদনে আরো বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে, দাম কমাবে এবং বিদেশ থেকে ব্যবহৃত এবং সংস্কারকৃত ফোন আনা নিরুৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা প্রতারিত হন এবং সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।

শফিকুল আলম বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়োজিত নামাজে জানাজা ও দাফনের বিষয়েও আলোচনা করেছে। এতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সাথে বৃহৎ পরিসরে ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপরে প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ সম্পর্কে প্রেস সচিব বলেন, সম্প্রতি প্রণীত শ্রম আইনের কিছু বিধান সম্পর্কে কিছু অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই উদ্বেগ দূর করার জন্য, উপদেষ্টা পরিষদ একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

কমিটি আইনটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীা করবে, কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা চিহ্নিত করবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানান শফিকুল আলম।

উপদেষ্টা পরিষদ হজ ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ল করা গেছে যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া হজযাত্রীদের কাছ থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য অভিযোগ নেই, যদিও বেসরকারি হজ এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।

প্রেস সচিব বলেন, তাই উপদেষ্টা পরিষদ হজ ব্যবস্থাপনায় অবহেলাকারীদের আইনের আওতায় আনাসহ সামগ্রিক হজ ব্যবস্থাপনার উন্নতির উপায় অনুসন্ধানের বিষয়ে আলোচনা করেছে। ব্রিফিংয়ে উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এবং সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।