নিউ ইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ ৩ বাংলাদেশী নিহত
Printed Edition
নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ক্লাভেরাক শহরে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন বাংলাদেশীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক বছর বয়সী এক শিশু ও তার মা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিউ ইয়র্ক শহর থেকে ১১৭ মাইল দূরে স্টেট রুট ৯ এইচ-এর ভ্যান উইক রোডের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি ‘টয়োটা প্রিয়াস’ গাড়ি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাঝের লাইন অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ‘টয়োটা ক্রাউন’ গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান প্রিয়াস গাড়িতে থাকা ব্রঙ্কসের ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ হেরামন, তার ছেলে ২৯ বছর বয়সী নাজমুল রবেল এবং ২৫ বছর বয়সী ফাহিম হালিম। নিহতদের সবাই বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত।
একই গাড়িতে থাকা নাজমুল রবেলের স্ত্রী ৩৩ বছর বয়সী ফাতিমা আক্তার এবং তাদের এক বছর বয়সী শিশু সন্তান গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তারা স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অন্য দিকে, টয়োটা ক্রাউন গাড়িতে থাকা ৬২ বছর বয়সী মার্কিন নারী জুলিয়া রিচিও ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে ওই গাড়ির চালক ২৪ বছর বয়সী লুকা পালভেনিয়ান প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
দুর্ঘটনার পর ধ্বংসাবশেষ ও তেলের দাগের কারণে সড়কটি প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকে। কলাম্বিয়া কাউন্টির শেরিফ জ্যাকি সালভাতোরে জানান, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক তদন্তে চালকের মদ্যপ থাকা কিংবা রাস্তার প্রতিকূল পরিস্থিতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং রাস্তার বিপজ্জনক বাঁকগুলো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে।
শেরিফের দফতর জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হতাহতদের বাড়ি মুরাদনগরে
মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, নিহত হীরামনের ছোট বোন রাজিয়া বেগম জানিয়েছেন, নিহতদের নামাজে জানাজা বুধবার নিউ ইয়র্ক সময় জোহরের নামাজের পর বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টারে (২৩৫১, অ্যাভিনিউ, ব্রঙ্কস, নিউ ইয়র্ক) অনুষ্ঠিত হবে। পরে নিউ জার্সির মার্লবোরো মুসলিম সিমেট্রিতে তাদের দাফন করা হবে।