জুলাই জাদুঘর থেকে ভারতীয় আগ্রাসনসংক্রান্ত প্রদর্শনী সরানোর অভিযোগ নাহিদের

Printed Edition
back-4
জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে ‘ভারতীয় আগ্রাসন’ সংক্রান্ত কিছু প্রদর্শনী সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, জাদুঘরে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে নিহত বাংলাদেশীদের তালিকা, ফেলানীর ভাস্কর্য এবং নরেন্দ্র মোদিবিরোধী আন্দোলনের কিছু স্মৃতি ও ছবি রাখা হয়েছিল; পরে সেগুলো সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

গতকাল শেরেবাংলানগরের গণভবনে স্থাপিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তার সাথে এনসিপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ছিলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জাদুঘরে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি আলাদা অংশ ছিল। সেখানে ‘ভারতীয় বিএসএফের হাতে নিহত ভাইবোনদের’ তালিকার পাশাপাশি ফেলানীর একটি ভাস্কর্যও ছিল। তার অভিযোগ, এসব সরিয়ে দেয়া হয়েছে। একই সাথে মোদিবিরোধী আন্দোলনের কিছু স্মৃতি ও ছবিও এখন আর সেখানে নেই বলে দাবি করেন তিনি।

এসব প্রদর্শনী বাদ দেয়ার পেছনে বর্তমান সরকার ও বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এনসিপি নেতা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি হয়তো ভারতের বিষয়ে ‘ভীত’। তার প্রশ্ন, ভয় না থাকলে ইতিহাসের অংশ এমন বিষয়গুলো জাদুঘর থেকে বাদ দেয়া হবে কেন।

জাদুঘর পরিদর্শনের পর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় আধা ঘণ্টা কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করেন নাহিদ। পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি।

নাহিদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবি তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই করে আসছিলেন। ওই সময় তিনি জাদুঘরের স্থানটি পরিদর্শনও করেছিলেন। সে সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।

বর্তমান সরকার জাদুঘরের মূল পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ। তার দাবি, জাদুঘরের বর্তমান প্রদর্শনীতে বিএনপি দল হিসেবে যে নিপীড়নের শিকার হয়েছে, সেটিই তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এতে জাদুঘরের বয়ানে দলীয় ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে জাদুঘরের স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে নাহিদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অতীতে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। ক্ষমতায় আসা প্রতিটি দল নিজেদের মতো করে পাঠ্যবই ও ইতিহাসের বয়ান পরিবর্তন করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত ইতিহাস ও জাদুঘরকে জাতীয় চরিত্র দিতে হবে এবং সেখানে ‘পরম সত্য’ তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায় ও ঘটনাপ্রবাহ আরো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে হবে এবং পুরো বয়ানটি একটি ধারাবাহিক সময়রেখার ভিত্তিতে সাজানো প্রয়োজন। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ভূমিকা আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাহিদ আরো বলেন, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলার আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন ও প্রতিরোধের একই ধরনের বহু ঘটনা রয়েছে, যেগুলো জাদুঘরের বর্তমান বয়ানে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তার অভিযোগ, সেখানে বারবার পরিচিত মুখগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সাথে যারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তাদের মাধ্যমেই জাদুঘর পরিচালনা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন এনসিপি আহ্বায়ক।

পরিদর্শনের সময় তার সাথে ছিলেন এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, আবদুল্লাহ আল আমিন ও নুসরাত তাবাসসুম এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সারজিস আলম, সারোয়ার তুষার, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ ও মাহিন সরকার। এ ছাড়া জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদারসহ দলটির অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।