আল্লামা ইকবালের ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন ইরানি কূটনীতিক
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
প্রাচ্যের কবি ও মুসলিম চিন্তাবিদ আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর সৈয়দ রেজা মীর মোহাম্মদী বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইরানের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের যে সমর্থন রয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জ্বালানি তেলসংক্রান্ত যে সমস্যা বাংলাদেশে বিদ্যমান, তা শিগগিরই সমাধান হবে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত ‘সার্বভৌম উম্মাহ : আগ্রাসন মোকাবেলায় আল্লামা ইকবালের (রহ.) ঐক্যের দর্শন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
ইকবালের দর্শনে ঐক্যের আহ্বান
সৈয়দ রেজা মীর মোহাম্মদী তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের চিন্তা ও দর্শন নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এক শতাব্দী আগেই ইকবাল মুসলিম বিশ্বের নানা সঙ্কট ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন। তার মতে, এই সময়ে মুসলিম বিশ্বকে আত্মপরিচয় সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং পারস্পরিক ঐক্য জোরদার করতে হবে।
‘সার্বভৌম উম্মাহ’ গঠনের প্রস্তাব
আলোচনা সভার ধারণাপত্রে খোমেনি ইহসান বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং নতুন শক্তির উত্থানের প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বকে একটি স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে।
তিনি ‘মিলিটারি কনভারজেন্স’ বা সামরিক ঐক্যের মাধ্যমে একটি সমন্বিত মুসলিম প্রতিরক্ষা জোট গঠনের আহ্বান জানান। তার প্রস্তাবিত কাঠামোতে পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক, সৌদি আরব, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, এই জোটের লক্ষ্য হবে আগ্রাসনের শিকার রাষ্ট্রগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় স্বনির্ভরতা অর্জন।
অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতার প্রস্তাব
খোমেনি ইহসান মুসলিম বিশ্বের মধ্যে অর্থনৈতিক একত্রীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি একক আন্তর্জাতিক মুদ্রা চালু, ‘উম্মাহ ক্রিপ্টোকারেন্সি’ প্রবর্তন এবং সমন্বিত জ্বালানি নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।
তার মতে, তেল ও গ্যাসকে কেবল বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে নয়, বরং কৌশলগত ভূরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
শিক্ষা ও গবেষণায় সমন্বয়ের আহ্বান
তিনি মুসলিম বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে শিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক মান অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন।
নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার খানের সভাপতিত্বে এবং জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. আব্দুল্লাহ আল ইউসুফ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন এ কে এম রেজাউল করীম, ড. শেখ আকরাম আলী, আফজাল ওয়ার্সি, নাঈম আহমেদ, রাশেদুর রহমান, আবু সালেহ, মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, সাইয়েদ কুতুব, তৌহিদ তপু, ফজলুর রহমান, জিহাদী ইহসানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। সভায় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের ঐক্য, আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদাবোধের দর্শন মুসলিম বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হতে পারে।