চুয়াডাঙ্গায় টানা ৪ দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
তীব্র গরমে পুড়ছে সারা দেশ
এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
Printed Edition
গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের ওপর দিয়ে তীব্র তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষ, প্রাণিকুলকে। এর মধ্যে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গায় অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও তীব্র গরমে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। টানা চারদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এ জেলায়। এ ছাড়া শনিবার (১০ মে) এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসও রেকর্ড করা হয়। আর গতকাল বিকেলে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২৬ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস সূত্র জানা যায়, গত চার দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায়। এ চার দিন তাপপ্রবাহ মাঝারি থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ ছিল। গত বৃহস্পতিবার এ জেলায় ৩৯.৭, শুক্রবার ৪২, শনিবার ৪২ ও রোববার ৪১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
এ দিকে গরমে শহরের রাস্তাঘাট দুপুরের পর প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। লোকজন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না, এবং বাইরে বের হলে গরমের তীব্রতায় দ্রুত ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। শ্রমজীবী মানুষদেরও বাইরে কাজ করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। কৃষকরা মাঠের কাজ সাময়িক বন্ধ রেখে ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে সাবধান থাকতে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, গরমের কারণে পানিশূন্যতা এবং তাপজনিত রোগ বাড়তে পারে, তাই সবাইকে পানি ও অন্যান্য তরল খাবার বেশি করে পান করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
মংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, বৈশাখের খরতাপে পুড়ছে মংলার প্রাণ-প্রকৃতি। দিন যত গড়াচ্ছে সূর্যের দাপট যেন ততই বেড়েই চলেছে। অব্যাহত তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। গ্রাম থেকে জেলা শহর সর্বত্র হাঁসফাঁস অবস্থা। এ ছাড়া তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা প্রাণিকুলেও।
তবে তাপদাহে সব থেকে বেশি করুণ অবস্থায় রয়েছেন শ্রমজীবীরা। ভ্যানচালক, দিনমজুর থেকে শুরু করে দিন আনা দিন খাওয়া প্রতিটি মানুষের জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। চাইলেই গরমে বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ নেই তাদের। জীবিকার তাগিদে এ তীব্র গরমের মধ্যেও কষ্ট করতে হচ্ছে; এরপরও গরমের কারণে কমেছে আয়ও। তীব্র গরম অনুভূত হওয়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বিশেষ প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ ছাতা মাথায় অথবা রিকশায় চলাচল করলেও সংখ্যায় খুব কম। স্বস্তিতে নেই সাধারণ ব্যবসায়ীরাও।
মংলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। রোববার (১১ মে) মংলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। আর্দ্রতা বেশি থাকায় এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে জেলাজুড়ে। তীব্র গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে অতিষ্ঠ। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। গরমে কাজ করতে না পেরে নিম্ন আয়ের মানুষরা গাছের নিচে বসে সময় অতিবাহিত করেছেন। যারা বাড়ি থেকে বের হয়েছেন তাদের অধিকাংশের হাতেই ছিল ছাতা। আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার রংপুর বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস।
জেলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, রোববার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেলা ৩টায় ছিল ৩৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৫৬ শতাংশ। তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে দিনাজপুর জেলার উপর দিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।