জাতীয়তাবাদী দর্শনের ধারাবাহিকতায় কাজ করবেন তারেক রহমান : ফখরুল
নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই : সালাহউদ্দিন
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের যে দর্শন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দিয়ে গেছেন, সেটিকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া উপরে তুলে ধরেছিলেন। একইভাবে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের পতাকাও তিনি তুলে ধরেছিলেন। ঠিক সেই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানও জনগণকে সাথে নিয়ে এই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কাজ করবেন, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবেন- এটাই মানুষের প্রত্যাশা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে থেকে বের হওয়ার সময় গণমাধ্যমকে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসার কারণ হচ্ছে- বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক বিরল ব্যক্তিত্ব। যিনি তার নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেননি, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। যিনি তার সমগ্র জীবন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লড়াই করেছেন, কারাভোগ করেছেন। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু কখনো এই দেশ ছেড়ে চলে যাননি।
তিনি বলেন, এই যে দেশের প্রতি ভালোবাসা, মাটির প্রতি ভালোবাসা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা- এই সব কিছুই মানুষকে গভীরভাবে আলোড়িত করেছে। আর দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে, যখন তার অভিভাবকত্ব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, সেই সময়ে তার চলে যাওয়ায় মানুষ সবচেয়ে বেশি মর্মাহত হয়েছে। সে কারণেই দেশনেত্রীর নামাজে জানাজায় তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মানুষ সমবেত হয়েছে, চোখের পানি ফেলেছে এবং অত্যন্ত আশা নিয়ে ফিরে গেছে- তার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে কর্তব্য রয়েছে, সে কর্তব্য তারা পালন করবে এবং আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার মাধ্যমে এই দেশের পক্ষে যে শক্তি রয়েছে- জাতীয়তাবাদী দল, তাকেই তারা বিজয়ী করবে বলে আমি মনে করি।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সালাহউদ্দিন আহমেদ
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত বা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, আইনে সে সুযোগ নেই। বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের পর এমন ঘটনা ঘটলে আইনি জটিলতার কারণে স্থগিতের প্রশ্ন আসতে পারত; কিন্তু এখন সে পরিস্থিতি নেই। বাছাইয়ের আগেই তিনি নেই (মারা গেছেন)। আইনগতভাবে, লিগ্যাল এন্টিটি হিসেবে তিনি আর বিদ্যমান নন। সে জন্য তার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে টিকবে না। সে ক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থীর মনোনয়ন যদি টিকে যায়, বেগম খালেদা জিয়ার আসনে তারাই প্রার্থী হবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশানে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।
বেগম খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী আর নেই; কিন্তু তিনি মানুষের অন্তরে আছেন। গণতন্ত্রের মা হিসেবে তিনি খেতাব পেয়েছেন, প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। যারা ঢাকায় আসতে পারেননি, তারাও গায়েবানা নামাজে জানাজায় শরিক হয়েছেন। সারা পৃথিবীর মানুষের অংশগ্রহণে এটি ছিল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জানাজা- এ কথা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কত মানুষ তার জানাজায় শরিক হয়েছেন, তার পরিসংখ্যান হয়তো ভবিষ্যতে আলাদাভাবে তুলে ধরা যাবে। শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, সারা পৃথিবীর মানুষ জানে ও বিশ্বাস করে- গণতন্ত্রের লড়াই-সংগ্রাম করতে করতে একজন সাধারণ গৃহিণী কিভাবে সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের রক্ষক হতে পারেন, গণতন্ত্রের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া নিজের জীবন, সন্তান, পরিবার- সবকিছুই ত্যাগ করেছেন। বলতে গেলে, এ দেশের জন্য, এ দেশের মানুষের জন্য, এ দেশের মাটির জন্য তার যে টান, যে ভালোবাসা, যে দেশপ্রেম- তার কোনো তুলনা নেই। তিনি সবকিছু হারিয়েছেন; কিন্তু অর্জন করেছেন এমন এক উচ্চতা, যে উচ্চতায় পৃথিবীর বুকে খুব বেশি মানুষের নাম লেখা নেই। আমরা তার সেই ত্যাগ, সেই অবদান, সেই দেশপ্রেমকে পাথেয় করেই সামনে শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের চেষ্টা করব। করতেই হবে- এটাই জাতির দাবি। তার জীবনের বাণী, তার শিক্ষা আমরা পেয়েছি।
তিনি বলেন, আমরা সেভাবেই দেখি- বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন, তিনি শুধু বাংলাদেশের নেত্রী নন; তিনি সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি সব দল-মতের ঊর্ধ্বে নিজেকে তুলতে পেরেছেন এবং এ দেশের মানুষ, এ দেশের সবাই তাকে সেই মর্যাদায় আসীন করেছেন। এটাই আমাদের জাতীয় জীবনের প্রাপ্তি। অন্য দিকে আমরা তাকে হারালাম- সেই বেদনা, সেই শূন্যতা কখনোই পূরণ হবে না।