মরা নদীতে লাল শাপলার রঙিন বিস্ময় প্রকৃতি সংরণেরও নীরব বার্তা
Printed Edition
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার অস্কারজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ির পুকুরঘাট-সংলগ্ন মরা নদী বর্ষায় যেন ফিরে পেয়েছে নতুন প্রাণ। নদীর বুকে সবুজ পাতার বিস্তৃত চাদরের মধ্যে ফুটে থাকা অসংখ্য লাল শাপলা সৃষ্টি করেছে মনোমুগ্ধকর এক প্রাকৃতিক দৃশ্য, যা প্রতিদিন টানছে প্রকৃতিপ্রেমী, ভ্রমণপিপাসু ও নানা বয়সী দর্শনার্থীদের।
সরেজমিন দেখা যায়, শান্ত জলের ওপর গোলাকার সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে লাল শাপলার সমারোহ যেন প্রকৃতির নিখুঁত জলরঙের ক্যানভাস। ভোরের আলোয় ফুলগুলো পূর্ণ বিকশিত থাকলেও দিনের তাপ বাড়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে পাপড়ি বন্ধ হয়ে আসে। এই ণস্থায়ী সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরছেন, কেউ স্মৃতিবন্দী করছেন মোবাইল ক্যামেরায়।
সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি দেখতে আসা দর্শনার্থী রহিমা খাতুন বলেন, বাড়ি দেখতে এসে লাল শাপলার এমন অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন, তা কল্পনাও করেননি। নদীজুড়ে শাপলার এই দৃশ্য তার ভ্রমণকে আরো স্মরণীয় করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ দৃশ্য শুধু নান্দনিকতার নয়, পরিবেশগত গুরুত্বেরও প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় ফুল সাদা শাপলা হলেও একসময় দেশের বিল-ঝিল, খাল-বিল ও জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির শাপলা-পদ্মের সমারোহ ছিল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিতভাবে জলাশয় ভরাট এ৬বং পরিবেশের অবয়ের কারণে এসব জলজ উদ্ভিদের বিস্তৃতি ক্রমেই সঙ্কুচিত হচ্ছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম বলেন, পদ্ম ও শাপলা দু’টি ভিন্ন প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ। শ্রাবণ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত এদের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে। তবে জলাশয় ধ্বংস ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে শাপলা-পদ্মসহ অনেক জলজ উদ্ভিদ এখন হুমকির মুখে। তাই প্রাকৃতিক জলাশয় সংরণে কার্যকর উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
কটিয়াদীর এই মরা নদীর লাল শাপলার সমারোহ তাই শুধু বর্ষার একটি নয়নাভিরাম দৃশ্য নয়; এটি প্রকৃতির হারিয়ে যেতে বসা ঐশ্বর্য সংরণের প্রয়োজনীয়তারও এক নীরব স্মারক।