সনদ ছাড়াই শিক্ষকতা কৃষকলীগ নেতার
Printed Edition
খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদরাসার এবতেদায়ী জুনিয়র শিক ও কৃষকলীগ নেতা আব্দুল মোনায়েমের বিরুদ্ধে এইচএসসি সনদ ছাড়াই ৪৩ বছর ধরে চাকরি করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদরাসার এক শিার্থীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক, মাদরাসা শিা অধিদফতর ও মাদরাসা শিা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আব্দুল মোনায়েম ১৯৮৩ সালের ২ নভেম্বর নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদরাসায় এবতেদায়ী জুনিয়র শিক পদে যোগদান করেন। এসএসসি সনদ অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৬৭ সালের ২ জানুয়ারি হওয়ায় চাকরিতে যোগদানের সময় তার বয়স ছিল ১৬ বছর ১০ মাস। নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তথ্য, তার লিখিত ও মৌখিক পরীার নম্বরপত্র পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরো বলা হয়, মাদরাসা শিা অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে এইচএসসি পরীায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত দেয়া হলেও তিনি ১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালে পরীায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পরে ১৯৯৮ সালে পরীায় অংশ নেয়ার জন্য ছুটি নেন কিন্তু সেইবার তিনি পরীায় অংশ নেননি। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদরাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির শিক প্রতিনিধি থাকাকালে রেজুলিউশনে স্বার জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মোনায়েম বলেন, যোগদানের সময় তার বয়স কম ছিল এ বিষয়টি জেনেই নিয়োগ কমিটি তাকে নিয়োগ দেয়। মাদরাসার সুপার মো: হারুন অর রশিদ বলেন, তিনি ২০২৩ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর আব্দুল মোনায়েমকে এইচএসসি পরীা দেয়ার জন্য কয়েকবার বলেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে গুরুত্ব দেননি।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অলিদুজ্জামান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী পদপে নেয়া হবে।