বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ

Printed Edition

সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের কার্গো জাহাজ জব্দ করার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ৭ শতাংশ বেড়ে ৮৮.৩ ডলারে পৌঁছেছে।

তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে গত শুক্রবার ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার ঘোষণা দিলে তেলের বাজারে বড় পতনের আভাস মিলেছিল। সেদিন তেলের দাম এক লাফে ১০ ডলার কমে ৮৮ ডলারে নেমেছিল। কিন্তু পরদিনই মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে তেহরান পুনরায় ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতায় ইসরাইল ও হাউছি ইস্যুগুলোর পাশাপাশি জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতায় কোনো লাশ পড়ার আগেই বা বন্দী পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আগেই বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

ওমান উপসাগরে মার্কিন বাহিনী একটি ইরানি জাহাজে গুলিবর্ষণ ও সেটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর ইরান এই ঘটনাকে সমুদ্রপথে ডাকাতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্য দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, ইরান যদি তাদের প্রস্তাবিত শর্ত মেনে না নেয় তবে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলোতে বোমা হামলা চালানো হবে। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, উত্তেজনার কারণে গত রোববার হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করেনি, যা বর্তমান সঙ্কটে এই জলপথের ইতিহাসে অন্যতম শান্ত দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়াসহ বিশ্ব শেয়ারবাজারগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের বাজার বিশ্লেষক থমাস ম্যাথিউস জানিয়েছেন, ইরানের অবস্থানের এই নাটকীয় পরিবর্তন বাজারের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো একটি সম্ভাব্য চুক্তির আশায় বুক বেঁধে আছেন। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।