ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া

Printed Edition

রয়টার্স

ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা চলছে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বেশ বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও থেমে নেই উত্তর কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া রোববার একাধিক স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে, যা পারমাণবিক শক্তিধর দেশটির সাম্প্রতিক ধারাবাহিক উৎক্ষেপণের সর্বশেষ সংযোজন।

রোববারের এই উৎক্ষেপণ সাম্প্রতিক সময়ে পিয়ংইয়ংয়ের চালানো ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষার তালিকায় যুক্ত হলো, যার মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, আমাদের সামরিক বাহিনী সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার সিনপো এলাকা থেকে পূর্ব সাগরে নিক্ষেপ করা বেশ কয়েকটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।

ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ১৪০ কিলোমিটার (৮৬.৯ মাইল) পথ পাড়ি দিয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ সেগুলোর সঠিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করছে বলেও জানানো হয়েছে। সিউল বলছে, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি দৃঢ় যৌথ প্রতিরক্ষা অবস্থান বজায় রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার সামরিক হুমকি থেকে রক্ষা করতে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের যেকোনো উসকানির কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিউল। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনায় জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৬টার দিকে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের শহর সিনপো থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়া নজরদারি জোরদার করেছে এবং হাতে পাওয়া তথ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সাথে বিনিময় করেছে।

জাপান সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলের কাছে সাগরে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করার কথা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।

সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে পিয়ংইয়ং সম্প্রতি ঘন ঘন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে, তারই সবশেষ ঘটনা এটি। চলতি বছর এ নিয়ে সাত দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়ার; এর মধ্যে এপ্রিল মাসেই হয়েছে চারটি পরীক্ষা। দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ুংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের ওপর মনোযোগ দিয়েছে, আর এটিকে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক শক্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উন্নত করার সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে।’

এ ধরনের পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবের লঙ্ঘন। তবে জাতিসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে পিয়ংইয়ং বলে আসছে, ওই প্রস্তাব তাদের আত্মরক্ষার সার্বভৌম অধিকারকে ক্ষুণœ করে। উত্তর কোরিয়া এমন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল, যখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্র মে মাসে সম্মেলনে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া নিয়েও আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।