সাফ ফুটসাল
পদকে চোখ বাংলাদেশের
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফুটসালে বাংলাদেশে এখন আর নতুন নয়। পুরুষ এবং নারী উভয় বিভাগেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। তবে এই প্রথম সাফ পুরুষ ও নারী ফুটসাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১৩-২৫ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে পুরুষ সাফ ফুটসাল। ১৪-২৬ জানুয়ারি নারী সাফ ফুটসাল। দুই আসরেই বাংলাদেশ জিততে চায় পদক। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে পুরুষ দলের ফুটবলার তুহিন স্বর্ণ জয়ের ঘোষণা দিলেন। নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন অবশ্য এ বছর পদক ( শিরোপা) জয়ের ঘোষণা দিলেন না। তার মতে, ‘এ বছর নয়। আগামী বছর শিরোপা জয়ের আশা করছি। কারণ আমরা এখনো ফুটসালে নতুন।’ দুই দলেরই হেড কোচের দায়িত্ব পালন করবেন ইরানী কোচ খোদা রাহমি। আর ম্যানেজার স্বয়ং ফুটসলা কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান নিজেই। আজই বাংলাদেশ দল থাইল্যান্ড যাচ্ছে। এত আগে সেখানে যাওয়ার কারন, ব্যাংককে কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা।
গত বছর নারী জাতীয় দলের হেড কোচ পিটার জেমস বাটলারের বিপক্ষে বিদ্রোহ করে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন সাবিনা। এরপর ভুটান লিগে খেলে এসেছেন। তবে জাতীয় দলে আর ডাক পাননি। তবে এখন ফুটসাল জাতীয় দলের কোচ খোদা রাহমির আস্থা সাবিনার ওপর। তাই তার হাতেই থাকবে আর্ম ব্যান্ড। আবার বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব নিয়ে মিডিয়ার মুখোমুখি হওয়া সাবিনার। তাই সব আকর্ষণই ছিল লাল-সবুজ মূল নারী দলের সাবেক এই অধিনায়কের দিকে। আগেও থাইল্যান্ডে ফুটসাল খেলতে গিয়েছিলেন তিনি। এবার দ্বিতীয়। দু’টির সাথে পার্থক্য করতে গিয়ে এই স্ট্রাইকার বলেন, তখন তো প্রথমবার খেলতে গিয়েছিলাম। এখন দ্বিতীয়বার। এখন বাংলাদেশের মেয়েরা ফুটসাল সম্পর্কে জানে। এর আইন-কানুন সম্পর্কে অবগত। কিভাবে খেলতে হয় তা-ও বুঝে। তাই আশা করছি এবার ভালো কিছু হবে।
বাংলাদেশ নারী সাফে টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন। দু’বারই নেতৃত্ব ছিল সাবিনার হাতে। এবারে আরেকটি সাফের আসর। তা ফুটসাল। এখন কেন বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে না। সাবিনার মতে, এবার হয়তো হবে না। তবে আগামীতে হবে। দেখুন মালদ্বীপ কিন্তু ফুটসালে বেশ এগিয়ে। মালদ্বীপের মেয়েরা মূলত ফুটসালই খেলে। ভারতও শক্তিশালী। তারা বেশ কিছু বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলেছে। তাদের পরিকল্পনাও এগিয়ে থাকে। বাকি দলগুলো আমাদের মতোই। তাই আশা করছি ভালো কিছু হবে। এ বছর না হলে পরে। ফুটসালেও আমি ট্রফি এনে দিয়ে ইতিহাস গড়তে চাই।
ফুটসাল জাতীয় দলের নেতৃত্বে। এই আসরের মাধ্যমে ফের মূল জাতীয় দলে ফেরার ইচ্ছে আছে কি না? এর জবাবে সাতক্ষীরার এই মেয়ে বলেন, যেহেতু আমি আগে ফুটসাল খেলেছি, তাই আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্যই ফুটসালে খেলছি। আমি যে শুধু ফুটসালই খেলব তা নয়। একজন খেলোয়াড় কখন খেলা ছাড়বে কখন খেলা চালিয়ে যাবে তা সেই খেলোয়াড়েরই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সাবিনা ফুটসাল খেলবে না ফুটবল খেলবে সেটা নয়। আমি যেহেতু দু’টি খেলাই পারি তাই উভয় ক্ষেত্রেই দেশকে সহায়তা করতে চাই। সে সাথে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাটা বেশ গর্বের।’ এই সাফে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে কি না এই প্রসঙ্গে কোচ খোদারাহমি বলেন, এটা নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের শক্তির ওপর। তবে আমি আশাবাদী। ইনশাআল্লাহ হবে।’ তবে এই কোচের দাবি, যারা ফুটসাল খেলবে তারা যেন ফুটসালই খেলে। ফুটবল নয়। প্রতি বিভাগেই আলাদা আলাদা খেলোয়াড় থাকতে হবে।’ তিনি ফুটসালের অবকাঠামো বাড়ানোর দাবি করেন বাফুফে এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে।
ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান তথ্য দেন, সাফ ফুটসালে অংশ নেয়া প্রতিটি দলই র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। মালদ্বীপের র্যাংকিং ১০৯। ভারত আছে ১৩৩ এ। পাকিস্তান ১৩৮। আর বাংলাদেশ আছে ১৩৯ এ।
নারী সাফ ফুটসালে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৫ জানুয়ারি ভারতের বিপক্ষে। ১৭ তারিখের প্রতিপক্ষ ভুটান। এরপর ১৯ তারিখে নেপাল, ২১ তারিখে শ্রীলঙ্কা, ২৩ তারিখে পাকিস্তান ও ২৫ তারিখে মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলবে।
পুরুষ সাফে বাংলাদেশ ১৪ তারিখে ভারত, ১৬ তারিখে মালদ্বীপ, ১৮ তারিখে ভুটান, ২০ জানুয়ারী শ্রীলঙ্কা, ২২ জানুয়ারি পাকিস্তান ও ২৪ জানুয়ারি নেপালের সাথে খেলবে।
বাংলাদেশ দলে দুইজন ইরানি নারী সহকারী এবং একজন মিয়ানমারের পুরুষ সহকারী কোচ আছেন। পুরুষ দলের অধিনায়ক রাহবার খান কানাডা থেকে আগামীকাল সরাসরি থাইল্যান্ডে এসে দলের সাথে যোগ দেবেন।