সিলেট ‘জেলা হাসপাতাল’ চালুর উদ্যোগ
পরিদর্শন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী
Printed Edition
সিলেট ব্যুরো
সিলেটে তিন বছর আগে প্রায় শত কোটি টাকায় নির্মিত আটতলা বিশিষ্ট ‘জেলা হাসপাতাল’ স্বাস্থ্য অধিদফতর, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কিংবা জেলা সিভিল সার্জন অফিস- কোনো কর্তৃপক্ষই গছতে রাজি না হওয়ায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ২০২৩ সালে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও গণপূর্ত বিভাগ হাসপাতাল হস্তান্তর করতে চাইলে কোনো কর্তৃপক্ষই এটা বুঝে নিতে রাজি হয়নি। ফলে এক ধরনের ‘বেওয়ারিশ’ অবস্থায় পড়ে আছে হাসপাতালটি।
গতকাল সোমবার সকালে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি শিগগিরই চালুর কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এ সময় তার সাথে ছিলেন স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর, সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও জেলা সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তারা।
এই হাসপাতাল চালু হলে সিলেটের সবচেয়ে বড় পাবলিক হাসপাতাল ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে। সিলেট অঞ্চলের রোগীরা এখান থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা নিতে পারবেন।
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৬ দশমিক ৯৮ একর জায়গার ওপর এই জেলা হাসপাতাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণপূর্ত অধিদফতর হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৩ সালে কাজ শেষ হলে সেটি হস্তান্তর করার উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত বিভাগ; কিন্তু এর পরিচালনার দায়িত্ব এখন পর্যন্ত কেউ বুঝিয়ে নিতে রাজি হননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ওসমানী হাসপাতালের দেড় শতাধিক বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী আবু সিনা ছাত্রাবাস ভেঙে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কারো মতামত না নিয়ে নির্মাণ করায় এটির দায়িত্ব নিতে রাজি ছিলেন না সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য অধিদফতর, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সিভিল সার্জন অফিসসহ কেউই এর দায়িত্ব নিতে রাজি নন। ফলে হাসপাতাল চালু করা নিয়ে দেখা দেয় চরম অনিশ্চয়তা। হাসপাতাল কমপ্লেক্স বুঝিয়ে দেয়ার মতো কর্তৃপক্ষ পাচ্ছিল না গণপূর্ত বিভাগ। ২০২৫ সালের অক্টোবরে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম। তার প্রচেষ্টায় হাসপাতালের দায়িত্ব হস্তান্তরসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে আট সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
গণপূর্ত বিভাগ জানায়, ১৫ তলা হাসপাতাল ভবনে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে আট তলা ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। পুরোপুরিভাবে হাসপাতালটি হস্তান্তরের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই অপেক্ষায় রয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।
জানা গেছে, হাসপাতাল ভবনের বেজমেন্টে রয়েছে কার পার্কিং ব্যবস্থা। প্রথম তলায় টিকিট কাউন্টার ও ওয়েটিং রুম; দ্বিতীয় তলায় আউটডোর, রিপোর্ট ডেলিভারি ও কনসালট্যান্ট চেম্বার; তৃতীয় তলায় ডায়াগনস্টিক; চতুর্থ তলায় কার্ডিয়াক ও জেনারেল ওটি, আইসিসিইউ, সিসিইউ।
পঞ্চম তলায় গাইনি বিভাগ, অপথালমোলজি, অর্থপেডিক্স ও ইএনটি বিভাগ এবং ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলায় ওয়ার্ড ও কেবিন। হাসপাতালে রয়েছে আইসিইউ বেড ১৯টি, সিসিইউ বেড ৯টি এবং ৪০টি কেবিন রয়েছে।