৩৭ হাজার টন সার পরিবহন

আটকা পড়া বিএসসির জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালীর পথে

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা অবশেষে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে নোঙর তুলেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে জাহাজটি হরমুজ প্রণালী থেকে ৪০ ঘণ্টা সময়ের দূরত্বে অবস্থান করছিল। এর আগে গতকাল বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পর জাহাজটি সম্ভাব্য তিনটি গন্তব্য সামনে রেখে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার জন্য অগ্রসর হয়। জাহাজটিতে বাংলাদেশের ৩১ জন নাবিক-ক্রু রয়েছেন।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে গতকাল বিকেল সোয়া ৫টায় দেখা যায়, সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে সারবোঝাই করার পর দাম্মাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে রওনা দেয়া জাহাজটি পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছিল। জাহাজটি ঘণ্টায় ৯ দশমিক ৩০ নটিক্যাল মাইল গতিবেগে এগিয়ে যাচ্ছে । জাহাজটির ড্রাফট (জাহাজের পানির নিচের অংশের দৈর্ঘ্য) ১০ দশমিক ৮০ মিটার।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক গতকাল বুধবার দুপুরে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে সারবোঝাই করার পর জাহাজটি পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশে অপেক্ষমাণ ছিল দাম্মাম বন্দরে। গতকাল ভোরে যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা আসার পরপরই জাহাজটি নোঙ্গর তুলেছে জানিয়ে তিনি বলেন, হরমুজে পৌঁছাতে আরো ৪০ ঘণ্টা সময় লাগবে।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, জাহাজে থাকা নাবিক ক্রুদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে আমরা প্রতিদিনই তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছি। জাহাজটি সারজাহ থেকে লোড করে যখন জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে তখনই যুদ্ধ শুরু হয়। জাহাজটির অদূরেই একটি কৌশলগত স্থাপনায় মিসাইল হামলাও হয়। জাহাজের পণ্য আনলোড হওয়ার পর আমরা জেটি থেকে জাহাজ সরিয়ে নিই। হরমুজের সাত মাইল আগের রাসেল আর খাইর এলাকায় জাহাজটি নোঙর করা হয়। কিন্তু সেখানেও দেখা যায় প্রচুর মিসাইল হামলা হচ্ছিল। পরে সেখান থেকে জাহাজ সারজায় নিয়ে এসে নোঙ্গর করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশী ছয় জাহাজকে হরমুজ অতিক্রমের অনুমতি দেয় ইরান, যার মধ্যে বাংলার জয়যাত্রাও ছিল। তিনি বলেন, জাহাজটির অপেক্ষা যখন বাড়ছিল তখনই চার্টারারের সাথে আলোচনা করে জাহাজে সারবোঝাই করার সিদ্ধান্ত হয়। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, সার ৩০-৪০ দিন পর্যন্ত জাহাজে নিশ্চিন্তে রাখা যায়। তিনি জানান, ক্যালকুলেটেড রিস্ক নিয়ে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন এমওপি সারবোঝাই করা হয়েছে। চার্টারার তিনটি গন্তব্য ঠিক করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেগুলো হলো সাউথ আফ্রিকা, মোজাম্বিক ও ব্রাজিল। জাহাজটির এক দিনও অফ হায়ার (ভাড়া বিহীন) হয়নি বলেও তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েলবোঝাই করে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় বাংলার জয়যাত্রা। এর পরদিনই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে সঙ্ঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একই সাথে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে আটকা পড়া ২ সহস্রাধিক জাহাজের মধ্যে বাংলার জয়যাত্রাও আটকা পড়ে। গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস শেষ হয়। এরপর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্যবোঝাই করার সূচি ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। সে অনুযায়ী জাহাজটি হরমুজ প্রণালীর দিকে যাত্রা শুরু করলেও নিরাপত্তার কারণে আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হয় জাহাজটিকে। যুদ্ধবিরতির পর এখন আবার যাত্রা শুরু করল জাহাজটি।