জয়শঙ্করের সফর সৌজন্যমূলক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত হবে না : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে সৌজন্যমূলক হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, এই সফরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত হবে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত সফরে গত বুধবার ঢাকা এসেছিলেন। তিনি সংসদ ভবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেয়া একটি ব্যক্তিগত চিঠি তিনি তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ছাড়া জয়শঙ্কর আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সাথেও সাক্ষাৎ করেন। এই দুই উপদেষ্টা পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা এবং ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুংয়েলের সাথেও সাক্ষাৎ করেছেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের প্রতিনিধিরা এসেছেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এসেছেন। জয়শঙ্করের সফরটি ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। তিনি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিদায় নিয়েছেন। এটি একটি ভালো সৌজন্য বোধ। এই সফর থেকে এর চেয়ে বেশি অর্থ খুঁজতে না যাওয়াই ভালো।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে একান্ত কোনো বৈঠক হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মধ্যে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ কোনো আলাপ হয়নি, তেমন সুযোগও ছিল না। পাকিস্তানের স্পিকারসহ অন্যান্য বিদেশী অতিথিদের সাথে জয়শঙ্কর হাত মিলিয়েছেন। এটি সাধারণ সৌজন্যতা, যা সবাই মেনে চলেন। তার সাথে আমার যতটুকু কথা হয়েছে, তাতে রাজনীতি ছিল না, ছিল কেবলই সৌজন্য বিনিময়।
জয়শঙ্করের সফর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কোনো ভূমিকা রাখবে কি না- জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এর উত্তর আপনাদের আগামীতেই খুঁজে নিতে হবে।
বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিদেশী অতিথি ও কূটনীতিকদের উপস্থিতি সম্পর্কে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ তো বটেই, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও বেগম খালেদা জিয়ার যথেষ্ট ইতিবাচক ভাবমর্যাদা আছে। তিনি নিজেকে যে অবস্থানে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন, তা আপনারা জানেন। দলমত নির্বিশেষে দেশের মানুষের মধ্যে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। খালেদা জিয়ার এই সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতাকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবাই স্বীকৃতি দিয়েছে। তার মৃত্যুর পর জানাজা বা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে বিদেশীরা অংশ নেবেন, এটাই স্বাভাবিক।
বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী : সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে খোলা শোক বইতে গতকাল স্বাক্ষর করেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ তাকে স্বাগত জানান।
শোক বার্তায় রাজনাথ সিং লিখেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান সবসময় স্মরণ রাখা হবে।