যুদ্ধকালে আমিরাতে আয়রন ডোম ও সেনা পাঠায় ইসরাইল
Printed Edition
জেরুসালেম পোস্ট
ইরানের সাথে সংঘাত চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) রক্ষায় সেখানে নিজেদের অত্যাধুনিক ‘আয়রন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং কয়েক ডজন সেনা পাঠিয়েছিল ইসরাইল। ইসরাইলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ আজ রোববার প্রকাশ্যে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৬ এপ্রিল কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবরটি প্রকাশিত হলেও আজ ইসরাইলি মন্ত্রীর সরাসরি স্বীকারোক্তির পর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এলো। একাধিক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের (এমবিজেড) মধ্যে জরুরি টেলিফোন সংলাপের পরই আবুধাবিতে আয়রন ডোম ব্যাটারি ও ইন্টারসেপ্টর পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। উপসাগরীয় এই দেশটির দিকে ইরানের ছুড়ে দেয়া কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝ আকাশেই ভূপাতিত করা হয়।
যদিও তখন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমিরাতের এক শীর্ষ কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল যে, আব্রাহাম চুক্তি নিরাপত্তা সহযোগিতার পথ খুললেও, আমিরাতের মাটিতে ইসরাইলি সেনা বা তাদের নিজস্ব কোনো সামরিক ব্যাটারি সরাসরি পরিচালনার খবরটি সঠিক নয়। আমিরাত তার আকাশসীমা সুরক্ষায় নিজস্ব মার্কিন প্রযুক্তির ‘থাড’ এবং ‘প্যাট্রিয়ট’ ব্যবস্থার ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বাইরে এই প্রথম কোনো দেশের বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে আয়রন ডোম ব্যবস্থার সফল ব্যবহার করা হলো। এর আগে কেবল সিঙ্গাপুর এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিনেছিল এবং রোমানিয়াও এটি পাওয়ার দৌড়ে রয়েছে। মূলত ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম চুক্তি’র পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়লেও সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের সময় তা এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছায়। কারণ, যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলের তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে কয়েক শ’ বেশি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার ড্রোন ছুড়েছিল তেহরান।
যদিও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল, তবুও কিছু প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সে সময় মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ ইরানে অবস্থানরত ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়, যাতে আমিরাতের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কমিয়ে আনা যায়। অন্য দিকে, মার্কিন মধ্যস্থতায় আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা বলয়ের অংশ হিসেবে ইসরাইল ও সৌদি আরব পরোক্ষ সহযোগিতা করলেও রিয়াদকে এ ধরনের কোনো প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের খবর পাওয়া যায়নি। সৌদি আরব ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের শর্তে এখনো অনড় রয়েছে।