১৩৭ বছর পর জিম্বাবুয়েতে ফিরল পাখির ভাস্কর্য

Printed Edition
onno-3
১৩৭ বছর পর জিম্বাবুয়েতে ফিরল পাখির ভাস্কর্য

বিবিসি

দীর্ঘ ১৩৭ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জিম্বাবুয়ের ঐতিহ্যের প্রতীক পাথরে খোদাই করা পাখির ভাস্কর্যগুলো অবশেষে স্বদেশে ফিরেছে। জিম্বাবুয়ে বার্ড হিসেবে পরিচিত এই শিল্পকর্মটি দেশটির জাতীয় পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঔপনিবেশিক শাসনামলে এই ভাস্কর্যগুলো জিম্বাবুয়ে থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ পাখিটি চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এই ঘটনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতীকের প্রত্যাবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া। ধূসর সোপস্টোনে নির্মিত এই অমূল্য ভাস্কর্যটি এক সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী সেসিল রোডসের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল। এই পাখির সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা জিম্বাবুয়ের আরো কিছু মানুষের লাশ ফেরত পাঠিয়েছে, যা এক সময় ঔপনিবেশিক গবেষণার অজুহাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ভাস্কর্য ফেরত পাওয়া নয়, বরং ঔপনিবেশিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতীকী সমাপ্তি। একই সাথে এটি আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সম্পদ ফেরতের একটি বিরল উদাহরণ। এই পাখির ভাস্কর্যগুলো মধ্যযুগীয় গ্রেট জিম্বাবুয়ে নগরীর ধ্বংসাবশেষ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। একাদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত এই শহরের দেয়ালে এগুলো স্থাপন করা ছিল। প্রতœতত্ত্ববিদদের মতে, এগুলো জিম্বাবুয়ের অন্যতম মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন।

১৯৮০ সালে স্বাধীনতার পর জিম্বাবুয়ে এসব নিদর্শন ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়। ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশ থেকে ভাস্কর্যগুলো ফিরিয়ে আনা হয়। তবে সর্বশেষ পাখিটি ফেরত পেতে আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় লেগেছে।