নায়কদের স্বেচ্ছাচারিতা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ক্ষতিকর অভিযোগ তিশার

বিনোদন প্রতিবেদক
Printed Edition
bino-2

সম্প্রতি ছোট পর্দার অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা নাটক ইন্ডাস্ট্রিতে নায়কদের স্বেচ্ছাচারিতা ও আধিপত্য নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমানে বেশির ভাগ নাটকের শুটিংয়ে পরিচালকদের পরিবর্তে নায়কদের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, কারণ এতে শুধু শৃঙ্খলা হুমকির মুখে পড়ে না, বরং অভিনয় শিল্পী হিসেবে তার আত্মসম্মানেও আঘাত আসে। তিশা জানান, নাটকের শুটিংয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত— যেমন মেকআপ আর্টিস্ট, ডিওপি, লাইটিং, গল্পের চরিত্র নির্বাচন, এমনকি সহশিল্পী হিসেবে কাকে রাখা হবে, সবকিছুই নায়কেরাই ঠিক করেন। তিনি বলেন, ‘এটা তো পরিচালকের কাজ, নায়কের কাজ নয়। পরিচালক যাকে প্রয়োজন মনে করবেন, তাকেই চরিত্রে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু আজকাল আমাদের কাছে কল আসে নায়কদের থেকে, পরিচালকদের কাছ থেকে নয়।’

তিশা আরো অভিযোগ করেন, নাটকের শিডিউলও নায়কদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অনেক সময় নায়কের পছন্দের সহশিল্পী না হলে শিডিউল পাওয়া কঠিন হয়ে যায়, যা ইন্ডাস্ট্রির সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে কাজ করা কষ্টকর হয়ে যাবে। আমি মনে করি, পরিচালকই আমার শিডিউল নেবেন, তিনিই গল্প নির্বাচন করবেন। নায়ক কেন এসব বিষয়ে মাথা ঘামাবে? চিত্রনাট্যে যা লেখা আছে, সে সংলাপই বলা উচিত, যদি কোনো পরিবর্তন করতে হয়, সেটা আলোচনার মাধ্যমে করা উচিত। কিন্তু নায়কদের একক সিদ্ধান্তে সব কিছু চলে যাচ্ছে, যা আমার আত্মসম্মানে আঘাত করে।’

তিশা মনে করেন, এই পরিস্থিতি ইন্ডাস্ট্রির জন্য খুবই ক্ষতিকর। তিনি মনে করেন, নায়কদের হাতে এই ক্ষমতা দেওয়ার কারণে তারা নিজেদের স্বেচ্ছাচারিতায় ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে ফেলছেন। তিনি আরও বলেন, ‘এটি যদি বন্ধ না হয়, তাহলে ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো কিছু হবে না। যারা শিল্পে আত্মসম্মান নিয়ে কাজ করতে চান, তাদের জন্য এই পরিবেশ অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠবে।’

অভিনেত্রী ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত, তার কথায়, ‘প্রতিদিন মনে হয় অন্য কিছু নিয়ে ভাবা উচিত, হয়তো অন্য ক্যারিয়ার বেছে নিতে হবে। এভাবে কাজ করা যায় না।’

তিশার এই মন্তব্যগুলো ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি সতর্কবার্তা, যা যে কোনো পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।