যে পরিবারের ঝগড়া শুনে পালায় বনের নেকড়েরাও
Printed Edition
ঝগড়া যে শুধু সংসারের শান্তি নষ্ট করে, তা নয়, ঠিকঠাক শব্দে বাজালে বনের বুনো জন্তু-জানোয়ারও ছুটে পালায়। এমনই এক অভিনব কৌশল নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ, যারা নেকড়ের উপদ্রব ঠেকাতে বাজাচ্ছে একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্রের দাম্পত্য কলহভিত্তিক দৃশ্য। আর সেই সিনেমার নাম ‘ম্যারেজ স্টোরি’ যেখানে এক দম্পতির বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় ঘটে যাওয়া তীব্র মানসিক দ্বন্দ্ব ও চিৎকার-চেঁচামেচি তুলে ধরা হয়েছে।
সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের কিছু কৃষি এলাকায় গবাদিপশুর ওপর বারবার হামলা চালাচ্ছে ধূসর রঙের নেকড়ে। এদের ঠেকাতে নানা রকম শব্দতাড়ানি প্রযুক্তি ব্যবহার করছে মার্কিন কৃষি বিভাগ। ড্রোনের মাধ্যমে বাজানো হচ্ছে আতশবাজির শব্দ, গুলির আওয়াজ, এমনকি সঙ্গীতও। তবে এর মধ্যেই এক অভিনব ও কিছুটা বিস্ময়কর পন্থা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে একটি চলচ্চিত্রের ঝগড়ার দৃশ্য; যেখানে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতির চূড়ান্ত পর্যায়ে কথোপকথন এতটাই তীব্র যে, তা নেকড়ের মতো হিংস্র প্রাণীকেও দূরে ঠেলে দিচ্ছে! চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলেন নোয়া বাউমব্যাক। এতে প্রধান চরিত্রে ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন ও অভিনেতা অ্যাডাম ড্রাইভার। চলচ্চিত্রটির একটি বিখ্যাত ঝগড়ার দৃশ্য-যেখানে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে দোষারোপ করছে, নিজেদের হতাশা ও রাগ উগড়ে দিচ্ছে- তা এখন ব্যবহার করা হচ্ছে নেকড়ের ভয় দেখাতে। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের এক সরকারি কর্মকর্তা পল উলফ এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমরা চাই নেকড়ে বুঝুক যে মানুষের উপস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে। তারা যেন বুঝতে পারে, এই এলাকায় আসা তাদের জন্য নিরাপদ নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘পুরুষ ও নারীর মিলিত কণ্ঠের তীব্র শব্দ নেকড়েদের মনস্তত্ত্বে বড় প্রভাব ফেলছে।’
এই অডিও ক্লিপ বাজানো হচ্ছে বিশেষভাবে তৈরি ড্রোনের মাধ্যমে, যা কোনো এলাকা দিয়ে নেকড়ে চলাচল শনাক্ত করলেই উচ্চ শব্দে সিনেমার সেই ঝগড়ার সংলাপ বাজাতে শুরু করে। এর ফলে বহু সময়েই দেখা গেছে, নেকড়ের দল সেই এলাকা ত্যাগ করেছে। এই উদ্যোগ যদিও অনেকের কাছে অদ্ভুত মনে হতে পারে, তবে গবেষকদের মতে, শব্দভীতির ওপর ভিত্তি করে বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণ একটি প্রতিষ্ঠিত কৌশল। অতীতে এমনকি ব্যান্ড দলের তুমুল গান বাজিয়েও বন্যপ্রাণী তাড়ানো হয়েছে। ‘ম্যারেজ স্টোরি’ সিনেমাটি ২০১৯ সালে মুক্তি পেয়েছিল এবং এটি ছয়টি জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিল, যার মধ্যে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কার জিতেছিলেন লরা ডার্ন। তবে সেই চলচ্চিত্রের সংলাপ যে একদিন বনের নেকড়ের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস থেকে একদিকে যেমন উঠে আসছে সিনেমার শব্দভাণ্ডারের শক্তি, অন্যদিকে তা দেখিয়ে দিচ্ছে- একটি সম্পর্কের ভাঙনের শব্দ কতটা ভয়ানক হতে পারে, যা শুধু মন নয়, পশুপ্রাণীকেও কাঁপিয়ে দিতে পারে।