হরমুজে দুই জাহাজে গুলি

মার্কিন অবরোধ ও ইরানের পাল্টা পদক্ষেপে বৈশ্বিক অস্থিরতা

Printed Edition
first-1
মার্কিন অবরোধের কারণে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর পুনরায় ‘কঠোর নিয়ন্ত্রণ’ আরোপ করেছে

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্ঘাত নতুন করে জটিল রূপ নিয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌঅবরোধ এবং তার জবাবে ইরানের কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ ও অবরোধ অব্যাহত থাকায় হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আবারো তাদের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে।

অন্য দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের সাথে সমঝোতা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান ক্রমেই মুখোমুখি সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে।

হরমুজ প্রণালীতে দুই জাহাজে গুলিবর্ষণ, ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি : মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে আবার কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইরান। শনিবার এই প্রণালী অতিক্রম করার সময় অন্তত দু’টি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এর আগে ইরানের নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে রেডিও বার্তার মাধ্যমে জানানো হয় যে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি আবারো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং কোনো জাহাজকে এটি অতিক্রম করতে দেয়া হবে না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক বার্তায় শত্রুদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, শত্রুদের ‘নতুন ও তিক্ত পরাজয়’ উপহার দিতে ইরানের নৌবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। তথ্য সূত্র : রয়টার্স।

জাহাজ চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা : বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী হয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হাজার হাজার জাহাজ আটকে আছে বা ঝুঁকি এড়াতে পথ পরিবর্তন করছে। কিছু জাহাজ ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে চলাচল করলেও অধিকাংশই অনিশ্চয়তার কারণে অপেক্ষমাণ।

কুয়েত থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, অনেক জাহাজ লারাক দ্বীপের কাছে পৌঁছে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি কিছু জাহাজের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে করে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই টানাপড়েন মূলত যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনকে কেন্দ্র করে। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে না নিয়ে বরং আরো সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে, যা চুক্তির পরিপন্থী। ফলে তেহরান প্রণালী নিয়ন্ত্রণকে একটি কৌশলগত চাপ হিসেবে ব্যবহার করছে।

তেহরানের এক বিশ্লেষক অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কম। বরং যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকিই বেশি।’

অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইরান পূর্বশর্ত ছাড়াই প্রণালী খুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা এখন তারা মানছে না। এই দ্বৈত অবস্থান কূটনৈতিক সমাধানকে আরো কঠিন করে তুলছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি : এই সঙ্কট শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। লেবাননে ইসরাইলি সেনাবাহিনী নতুন করে ‘ইয়েলো লাইন’ নির্ধারণ করে সামরিক অবস্থান জোরদার করেছে। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রয়েছে।

একই সময়ে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার ঘটনা উত্তেজনা আরো বাড়িয়েছে। ফ্রান্স এই হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছে, যদিও তদন্ত চলছে।

বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ও মধ্যস্থতা : বিশ্বনেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রতিদিন একটি রাষ্ট্রপ্রধানের হুমকির মধ্যে বিশ্বকে বসবাস করতে পারে না।’

এদিকে মিসর ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তুরস্কে অনুষ্ঠিত আনতালিয়া কূটনৈতিক ফোরামে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা বৈঠক করে সংলাপের মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

জ্বালানি বাজারে প্রভাব : হরমুজ প্রণালী বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।

ইতোমধ্যে অনেক জাহাজ মালিক ও বীমা কোম্পানি এই রুটকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে জাহাজ চলাচলের খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের কৌশলগত বার্তা : ইরান স্পষ্টভাবে হরমুজ প্রণালীকে একটি চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের জাহাজ চলাচল নিরাপদ না হবে, ততক্ষণ প্রণালীতে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হবে না।

এ ছাড়া ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রেও এই প্রণালী একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে। অর্থাৎ এটি শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

অনিশ্চয়তার ভবিষ্যৎ

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো- অনিশ্চয়তা। এক দিকে সীমিত আকারে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, অন্য দিকে সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার হচ্ছে। উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে যুদ্ধ এড়ানোর কথা বললেও বাস্তবে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ছোট কোনো ঘটনা থেকেও বড় সঙ্ঘাতের সূচনা হতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো- এই সঙ্কটকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং একটি কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা।

কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইরান, অনিশ্চয়তায় বৈশ্বিক বাণিজ্য

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্কটে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌঅবরোধ এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান আবারো প্রণালীর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, যা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গভীর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দফতরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ইরানের সশস্ত্রবাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আগের অবস্থার মতোই পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী আলোচনার ভিত্তিতে সীমিত সংখ্যক তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজকে নিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ চালিয়ে যাওয়ায় ইরান পুনরায় কঠোর নিয়ন্ত্রণে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজের অবাধ চলাচলের ওপর আরোপিত বাধা প্রত্যাহার না করবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালীতে এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।

গুলিবর্ষণ, জাহাজ ঘুরে দাঁড়ানো ও নতুন অনিশ্চয়তা

পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে সমুদ্রপথে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানায়, প্রণালী দিয়ে অতিক্রমের চেষ্টা করা একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি ট্যাংকারে ইরানের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা দু’টি গানবোট থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যদিও জাহাজ ও নাবিকরা অক্ষত রয়েছে, তবুও এই ঘটনা সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

প্রায় ২০টির মতো জাহাজ, যারা হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তারা ইরানি বাহিনীর রেডিও বার্তা পাওয়ার পর দিক পরিবর্তন করে ওমানের দিকে ফিরে যায়। এতে বোঝা যায়, প্রণালী কার্যত আবারো বন্ধের অবস্থায় চলে গেছে।

শিপিং খাতের সূত্রগুলো বলছে, কিছু জাহাজ আগে ইরানি বাহিনীকে বিপুল পরিমাণ ফি- কখনো কখনো ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত- দিতে সম্মত হয়েছিল নিরাপদে পারাপারের জন্য। কিন্তু সর্বশেষ পরিস্থিতিতে সেই ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে।

নতুন সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থার ঘোষণা

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে একটি ‘নতুন সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থা’র ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন থেকে কেবলমাত্র ইরানের অনুমোদনপ্রাপ্ত বাণিজ্যিক জাহাজ নির্দিষ্ট রুট দিয়ে চলাচল করতে পারবে এবং এর জন্য নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি জাহাজ চলাচলে সামান্যতম বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে এই নীতিমালা আরো কঠোর করা হবে। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইরান প্রণালীকে শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করছে।

ট্রাম্পের দ্বৈত বার্তা : আলোচনা নাকি যুদ্ধ?

এই উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরো অনিশ্চিত করে তুলেছে। তিনি এক দিকে দাবি করছেন, ইরানের সাথে আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’, অন্য দিকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন- চুক্তি না হলে আবার বোমা হামলা শুরু হতে পারে।

ট্রাম্প এমনও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চলমান যুদ্ধবিরতি তিনি বাড়াবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ‘প্রয়োজনে আবার বোমা ফেলতে হতে পারে’-এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সাথে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌঅবরোধ ‘খুব সফল’ হয়েছে।

এই ধরনের পরস্পরবিরোধী বার্তা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে এবং পরিস্থিতিকে আরো অস্থির করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

আলোচনায় অচলাবস্থা

ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরবর্তী দফা আলোচনায় বসতে সম্মত হয়নি। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শর্ত ও অবরোধ অব্যাহত থাকায় আলোচনা এগোনো সম্ভব নয়। পাকিস্তানের মাধ্যমে এই অবস্থান ওয়াশিংটনকে জানানো হয়েছে।

ইরানের শর্ত পরিষ্কার- যুক্তরাষ্ট্রকে তার দাবি নমনীয় করতে হবে এবং ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকার করতে হবে। অন্যথায় দীর্ঘসূত্রতা ও ফলহীন আলোচনায় তারা আগ্রহী নয়।

সামরিক বার্তা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি সেনাবাহিনী দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের সেনাবাহিনী শত্রুপক্ষের দুর্বলতা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করেছে এবং প্রয়োজনে আরো কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।

তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, ইরান এই সঙ্ঘাতকে শুধু বর্তমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি আদর্শিক ও কৌশলগত লড়াই হিসেবে দেখছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা

হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে অস্থিরতা মানেই বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বীমা কোম্পানিগুলো ঝুঁকি বাড়িয়ে দেখছে, শিপিং খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরাক ইতোমধ্যে দ্রুত তেল রফতানি পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়।

সামনে কী?

বর্তমান সঙ্কটে সবচেয়ে বড় শব্দটি হলো- ‘অনিশ্চয়তা’। এক দিকে সীমিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, অন্য দিকে সামরিক প্রস্তুতি- এই দ্বৈত বাস্তবতায় পরিস্থিতি যেকোনো সময় বড় সঙ্ঘাতে রূপ নিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী এখন কেবল একটি জলপথ নয়; এটি হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক শক্তির দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই এই কৌশলগত অবস্থান থেকে পিছু হটতে নারাজ।

ফলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে- তা নির্ভর করবে কূটনৈতিক সমঝোতা নাকি সামরিক উত্তেজনা- কোনটি প্রাধান্য পায় তার ওপর।