বিস্কুট দিয়ে বলা হয়, কুকুরের মতো চেটে চেটে খা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং

আমাকে একটা বিস্কুট দিয়ে বলে “কুকুরের মতো চেটে চেটে খা। পরে আমি অনেক কান্না করি বসে বসে, এরপরও তারা আমাকে অনেক মানসিক নির্যাতন করে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
Printed Edition
Barishal Unuversity

ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ওই বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি (২৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে গতকাল রোববার বেলা ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রক্টর ও বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর তিনটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আল শাহারিয়ার মোহাম্মদ মুস্তাকিম মজুমদার। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন, নাফিজ ফারদিন আকন্দ স্বপ্নীল, মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন, ইমন মাহমুদ, নেহাল আহমেদ ও মিরাজ। তারা একই বিভাগের ১০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

অভিযোগপত্রে লেখা হয়েছে, “গত ২৬ নভেম্বর, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়রদের নির্দেশে রুপাতলী হাউজিং মাঠে উপস্থিত হই। আমরা মোট ২৮ জন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলাম। পরে তারা আমাদের রাত সাড়ে ৯টার বাসে করে টোল প্লাজার কাছে ইমিডিয়েট সিনিয়র নেহাল ভাইয়ের বাসায় নিয়ে তিনতলার কক্ষে উঠিয়ে গেট আটকে দেয়। এরপর আমাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে নেয়া হয়। তখন রাত প্রায় সাড়ে ১০টা বেজে যায়। আমি এক সিনিয়র ভাইকে বলি ভাই ১১টায় তো আমাদের বাসার গেট বন্ধ করে দেয়। তারপর উনি সবাইকে এ বিষয়টি বলে। এটা শোনার পর নেহাল ভাই আমাকে দাঁড় করিয়ে শামীম ভাই আর সপ্নীল ভাইয়ের হাতে তুলে দেয় র‌্যাগ দেয়ার জন্য। সপ্নীল ভাই তখন আমাকে জঘন্য ভাষায় কবিতা আবৃত্তি করতে দেয়। আমি না বললে আমাকে বলে “যদি তুই আবৃত্তি না করিস তাহলে তুই মেন্টাল, তোর মাথায় সমস্যা,” আমার বাবা-মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, সপ্নীল ভাই আমাকে এক পায়ে দাঁড়াতে বলল, মিরাজ ভাই আর ইমন ভাই আমাকে ওয়ান কোয়ার্টার প্যান্ট দিয়ে বলল,” এটা পড়ে নাচ। ইমন ভাই বলল “শার্ট আর প্যান্ট খোল, তারপর মাস্টারবেশন কর।” এরপর স্বপ্নীল ভাই আমাকে একটা বিস্কুট দিয়ে বলে “কুকুরের মতো চেটে চেটে খা। পরে আমি অনেক কান্না করি বসে বসে, এরপরও তারা আমাকে অনেক মানসিক নির্যাতন করে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন বলেন, “আমরা জুনিয়রদের নিয়ে পিকনিক করছিলাম। ওই খানে একটু রাগারাগি হইছে। র‌্যাগিং দেয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। র‌্যাগিংয়ের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”