শিগগিরই এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা করা হবে : সড়কমন্ত্রী
Printed Edition
সংসদ প্রতিবেদক
শিগগিরই এসি বাস, মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং ভাড়ার তালিকা গণপরিবহনের অভ্যন্তরে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে প্রদর্শন করার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
গতকাল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম এ কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন। টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নত্তরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৭ অনুযায়ী প্রতিটি মহানগর এলাকা, বিভাগ এবং জেলায় একটি করে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি গঠন ও কর্মপরিধি নির্ধারণের বিধান রয়েছে। সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ এর বিধি ৬০(ক) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যাত্রী ও পণ্য’ পরিবহন কমিটি কর্তৃক রাস্তার ধারণক্ষমতা বিবেচনাক্রমে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে পরিবহন যানের সংখ্যা নির্ধারণ ও রুট পারমিট অনুমোদন করা হয়ে থাকে।
তিনি বলেন, ওই আইনের ধারা ৩৪ এর ২-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, গণপরিবহনের জন্য ভাড়ার হার ও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ বা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে উক্ত পুনর্নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী বিআরটিএ কর্তৃক ভাড়ার তালিকা বিআরটিএ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় এবং গণপরিবহনের অভ্যন্তরে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করানোর জন্য সংশ্লিষ্ট পরিবহন প্রতিষ্ঠান/মালিককে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। গণপরিবহনের নন-এসি বাস/মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা রয়েছে। শিগগিরই এসি বাস/মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং ভাড়ার তালিকা গণপরিবহনের অভ্যন্তরে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে প্রদর্শন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভারত থেকে আসা ২০০ ব্রডগেজ কোচ রেলওয়ে বহরে যুক্ত হবে : ভারত থেকে আসা ২০০ ব্রডগেজ কোচ রেলওয়ে বহরে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য মো: ইলিয়াস মোল্লার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে এই বছরে ঊঁৎড়ঢ়বধহ ওহাবংঃসবহঃ ইধহশ (ঊওই)-এর অর্থায়নে ভারত থেকে ২০০ ব্রডগেজ কোচের সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় জুন ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ সাল নাগাদ ক্যারেজগুলো সরবরাহ পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে রুট নির্ধারণে উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও জানান মন্ত্রী।
এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর মাত্র ৩৫ মিনিটে-এয়ারপোর্ট হতে গাজীপুর পর্যন্ত ২০.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান সড়কটিকে ৮-লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। এ ছাড়া এয়ারপোর্ট-১ ও ২, জসীমউদ্দীন, গাজীপুরা ইউটার্নসহ মোট ৮টি ফাইওভার এবং ৪.৫ কিমি. উড়াল সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে মাত্র ৩৫-৪০ মিনিটে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান। লিখিত জবাবে জানানো হয়, ঢাকা-১৮ এলাকার বনানী ওভারপাস থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত সড়কটি সড়ক বিভাগের আওতাধীন। যানজট নিরসনে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন বলাকা ভবন, ৩য় টার্মিনাল ও কাওলা এলাকার সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সড়ক বিভাজক (ডিভাইডার) স্থাপন করা হয়েছে।
যানজট নিরসনে তিনটি প্রধান প্রকল্পের কাজ চলমান : মেট্রোরেল (এমআরটি) লাইন-১ : ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ৬টি মেট্রোরেল নির্মাণের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। এর আওতায় এয়ারপোর্ট থেকে কুড়িল পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ এর নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলছে। এই লাইনটি চালু হলে ঢাকা-১৮ এলাকার যানজট অনেকাংশে কমে যাবে।
৩৪০টি এসি বাস সংগ্রহ : যানজট নিরসনের বিষয়টি মাথায় রেখে বিআরটিসির মাধ্যমে ৩৪০টি একতলা সিএনজি এসি বাস সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত ১ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে এ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উত্তরা, এয়ারপোর্ট ও খিলক্ষেত রুটে উন্নত বাস সার্ভিস চালু হবে, যা যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংসদে দেয়া তথ্যানুযায়ী, এই বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-১৮ আসনের জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থা আরো আধুনিক ও যানজটমুক্ত হবে।