বিভিন্ন স্থানে নিহত পাঁচ
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এক স্কুলছাত্রসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
বাসস জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে চলন্ত ট্রাকের ধাক্কায় নাঈম (৩০) নামে এক হেলপার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চালক মো: ইব্রাহিম (৩২) গুরুতর আহত হন। গতকাল ভোরে ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের কসকা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কসকা এলাকায় কেমিক্যাল ভর্তি একটি ট্রাক মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ওই ট্রাকের পেছনে টিনবোঝাই দ্রুতগতির আরেকটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। ট্রাকটি উল্টে গিয়ে ঘটনাস্থলে হেলপার নাঈম মারা যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। নিহত নাঈম যশোর জেলার নোয়াপাড়া থানার বাসিন্দা। আহত ইব্রাহিম ঢাকার সাভারে দরফ পাঁজা ঘাট এলাকার সামার উল্লাহর ছেলে।
মুকসুদপুর গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় তামিম মাতুব্বর (২৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে। নিহত তামিম মাতুব্বর মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কেষ্টপুর গ্রামের সালাম মাতুব্বরের ছেলে। শুক্রবার রাত ৮টার সময় মুকসুদপুর উপজেলার টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের শান্তিপুর নামক স্থানে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা টেকেরহাট গামী একটি অজ্ঞাত বাস শান্তিপুর এলাকায় এলে অপর দিক থেকে আসা গোপালগঞ্জ গামী মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ওভারটেক করতে গেলে বাসের সাথে ধাক্কা লাগে।
এতে মোটরসাইকেল আরোহী তামিম মাতুব্বর গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় আরো দু’জন গুরুতর আহত হন, তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের বড়াইগ্রামে দ্রুতগামী অটো ভ্যানের ধাক্কায় আবদুর রহিম (৮) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের দিঘইর মোড়ে জোনাইল-রাজাপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুর রহিম দিঘইর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। সে দিঘইর প্রি-ক্যাডেট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।
জোনাইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, সকালে আবদুর রহিম বন্ধুদের সাথে স্কুল থেকে রাস্তা পার হয়ে দোকানে যাচ্ছিল। এ সময় একটি দ্রুতগামী অটোভ্যান তাকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আলীকদম (বান্দরবান) সংবাদদাতা জানান, বান্দরবানের আলীকদমে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের সাথে ধাক্কা খেয়ে একজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকসহ আরো দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার আলীকদম-পোয়ামুহুরী সীমান্ত সড়কের ৪ নম্বর কুরুকপাতা ইউনিয়নের কচুরছড়া ব্রিজের (১নং ভিউ পয়েন্ট) পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুরুকপাতা বাজার থেকে দুইজন আরোহী নিয়ে একটি মোটরসাইকেল আলীকদম সদরের দিকে আসছিল।
পথিমধ্যে কচুরছড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ চালকের চোখে পোকা পড়লে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশের পাহাড়ে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে চালকসহ মোট তিনজন আরোহী রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় একটি সিএনজিচালক আহতদের উদ্ধার করে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরোহী লাংতুব মুরং মারা যান (৭০)। দুর্ঘটনায় আহত অন্য দুইজন আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন- মোটরসাইকেল চালক রিংরাউ মুরুং (২০) এবং আরোহী লংপং মুরং (৩৫)। চালক রিংরাউ আলীকদমের কুরুকপাতা ইউনিয়নের লেলংপাড়ার বাসিন্দা এবং আহত আরোহী লংপং মুরং লামা উপজেলার লাইল্যাপাড়ার বাসিন্দা।
নোয়াখালী অফিস জানায়, নোয়াখালীর কবিরহাট-সোনাপুর সড়ক পারাপারের সময় প্রাইভেট কার চাপা দেয়। এতে নাজমা নামের এক গৃহবধূ মারা গেছে। গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে রাস্তা পারাপারের সময় অলিপুর এলাকায় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়। এতে নাজমা বেগম নামের নারী আহত হন। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পরপরই প্রাইভেটকারটি পালিয়ে যায়।