নাহিদ রানার আগুন ঝরা বোলিং
Printed Edition
রফিকুল হায়দার ফরহাদ
সকাল থেকেই প্রচণ্ড রোদ। বৈশাখ মাসের তীব্র এই দাবদাহের মধ্যেও মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কিছু দর্শকের উপস্থিতি। বিশেষ করে পূর্ব দিকের গালারিতে বসা দর্শকদের কষ্টটা বেশিই হচ্ছিল। তবে তাদের এই রোদে পোড়ার কষ্ট লাঘব হয়েছে বাংলাদেশ দলের দারুণ এক জয়ে। আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের এই জয়ের ভিত্তিটা গড়ে দেন পেসার নাহিদ রানা। টস জয়ী বাংলাদেশ দলের তৃতীয় বোলার হিসেবে বল হাতে নেন তিনি। মোট চার স্পেলে শেষ করেছেন ১০ ওভার। প্রতি স্পেলেই পেয়েছেন উইকেট। মাথার ওপর প্রচণ্ড রোদ আর নাহিদ রানার আগুন ঝরা বোলিংয়ে পুড়েছে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা। এতে অর্জিত হয়েছে তার ওয়ানডে ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট নেয়া। ফলস্বরূপ ম্যাচ সেরার পুরস্কারও গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই বোলারের দখলে। ১০ ওভারে ৩২ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট। এতে সিরিজ ১-১-এ সমতা আনে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
ক’দিন আগেই পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট পাওয়া তার। সেটি ছিল ওয়ানডেতে তার প্রথম ফাইফার। কাল পাঁচ কিউই ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে এই অর্জনকে দুইয়ে নিয়ে গেলেন দীর্ঘদেহী এই বোলার। শুরুটা নিউজিল্যান্ডের উপেনার হেনরি নিকোলসকে এলবিডব্লিউ করার মাধ্যমে। আর শেষটা জেডেন লেনক্সকে দুর্দান্ত ইয়র্কারে বোল্ড করে। এ ছাড়া উইল ইয়ংকে তালুবন্দী করান শান্তর হাতে। তবে মোহাম্মদ আব্বাসের উইকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে আসল অবদান উইকেটরক্ষক লিটন দাসের। পুল করতে ব্যর্থ হয়ে আব্বাস যে বলটি আকাশে তোলেন, তা অনেকটা দৌড়ে এরপর সামনে শরীর ভাসিয়ে তা তালুবন্দী করেন লিটন। ডিন ফক্সক্রফটের ক্যাচটির জন্য তৌহিদ হৃদয়ের অবদান।
বোলিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা করেছিলেন তাসকিন ও শরীফুল। এরপর আসেন নাহিদ রানা। তার প্রথম স্পেলে পাঁচ ওভার থেকে এসেছে এক মেডেনসহ ১০ রান। শিকার দু’টি। তিন ওভারের দ্বিতীয় স্পেলেও বিপক্ষ ব্যাটাররা তুলতে পেরেছেন ১০ রান। এবার একটি উইকেট। তৃতীয় স্পেলে এক ওভারে ১১ রানে এক উইকেট। আর নিজের শেষ ওভারে পঞ্চম উইকেট পেতে কয়েকটি ইর্য়কার ডেলিভারির পর শেষ পর্যন্ত সফল। তাই ইনিংস শেষে বলটি হাতে নিয়ে সতীর্থদের হাততালি পেতে পেতে মাঠ ছাড়েন তিনি।