রিয়ালকে হারিয়ে এগিয়ে থাকল বায়ার্ন
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
ম্যানুয়েল ন্যুয়ারের দৃঢ়তা আর লুইস দিয়াজ ও হ্যারি কেনের গোল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে এগিয়ে গেল বায়ার্ন মিউনিখ। শেষের দিকে একটি গোল শোধ করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অবশ্য ম্যাচ শুরুর আগ পর্যন্ত ইতিহাস ছিল রিয়ালের পক্ষে। বাভারিয়ানদের বিপক্ষে সবশেষ ৯ ম্যাচেই অপরাজিত ছিল বার্নাব্যুর দলটি। এরপরও ঘরের মাঠে হার এড়াতে পারল না রিয়াল মাদ্রিদ। এই পরাজয়ে সেমিফাইনালের পথ অনেক কঠিন হয়ে গেল ইউরোপসেরার প্রতিযোগিতায় রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের। শেষ চারের টিকিট কাটতে হলে আলিয়াঞ্জ এরিনায় ফিরতি লেগে অবশ্যই জয় পেতে হবে রিয়ালকে।
এ দিন ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে শেষ আটের অন্য ম্যাচে পর্তুগালের ক্লাব স্পোর্টিং সিপির বিপক্ষে জয় নিয়ে ফিরেছে ইংলিশ প্রিমিয়ারের দল আর্সেনাল। ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়া গোলটি যোগ করা সময়ে প্রথম মিনিটে করেন কাই হাভার্টজ। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক রুই সিলভাকে এক প্রকার বোকা বানিয়ে গোলটি করেন জার্মানির এই ফরোয়ার্ড। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে পাওয়া এই জয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল গানাসররা।
আলিয়াঞ্জ এরিনায় রিয়ালের জন্য কাজটা হবে অনেক কঠিন। কারণ বায়ার্নের পক্ষে কথা বলছে ইতিহাস। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষের মাঠে প্রথম লেগ জেতার পর ৩১ বারের মধ্যে ৩০ বারই পরবর্তী ধাপে উত্তীর্ণ হয়েছে জার্মানের ক্লাবটি। আর একবার বিদায় নিতে হয়েছিল ‘অ্যাওয়ে গোল’ নিয়মের কারণে। ইন্টার মিলানের বিপক্ষে হেরে ২০১০-১১ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো থেকে ছিটকে পড়েছিল বায়ার্ন।
ইতিহাস পক্ষে থাকলেও বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির খুব ভালোমতোই জানা আছে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যেকোনো জায়গা থেকে ‘কামব্যাক’ করার সামর্থ্য আছে রিয়ালের। এ কারণেই কোম্পানি মানছেন, খেলা শেষ হয়নি। খেলার এখনো বাকি আছে।
সেটিই বিশ্বাস রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়ারও। ফিরতি লেগ জয়ে চোখ রেখে একটি বার্তা দিয়েছেন আরবেলোয়া, ‘যারা আমাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না, তারা মাদ্রিদেই থেকে যেতে পারেন; কিন্তু আমরা জয়ের জন্য নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিতেই যাচ্ছি মিউনিখে।’
ঘরের মাঠে প্রথম লেগ হারের পর ৭ বারের মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ পরবর্তী ধাপে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে মাত্র একবারই। ১৯৭০-৭১ ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে অস্ট্রিয়ান ক্লাব ওয়াকের ইনসব্রুকের বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রথম লেগ ১-০ গোলে হারলেও ফিরতি লেগ জিতে পরের ধাপের টিকিট কেটেছিল রিয়াল।
রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে গত পরশু বায়ার্ন মিউনিখের হাইভোল্টেজ ম্যাচে লড়াই হয়েছে সমানে সমানে। অসংখ্য সুযোগ নষ্ট করেছে দুই দলই। তা না হলে স্কোরলাইন আরো বড় হতে পারত। বল দখলে ২ শতাংশ পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল রিয়াল। এ সময় গোলের জন্য নেয়া ২১টি শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ১০টি। বিপরীতে ১৯ শটের ৪টি লক্ষ্যে রেখেই স্বাগতিকদের কুপোকাত করে ফিরেছে বায়ার্ন। রিয়ালের বিপক্ষে এ জয়টি প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় পর পেয়েছে জার্মান ক্লাবটি। এর আগে সবশেষ ২০১১-১২ আসরে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ২-১ গোলে জিতেছিল। সেবার ফিরতি লেগে একই ব্যবধানে জিতেছিল রিয়াল। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে বার্নাব্যুর দলটিকে হারানোর পর সেবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল বায়ার্ন।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচ শুরুর ৮ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বায়ার্ন। ডি-বক্সে ফেদেরিকো ভালভার্দের হাতে বল লাগলে সফরকারী দল পেনাল্টির আবেদন জানালেও হাত শরীর সোজা থাকায় রেফারি সাড়া দেননি। পরের মিনিটে গোলমুখে ফাঁকায় বল পেলেও উপামেকানো ঠিকমতো শট নিতে না পারায় আরেক দফা বেঁচে যায় স্বাগতিকরা। ১৬ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের শট পা দিয়ে আটকানোর দুই মিনিট পর ভিনিসিয়াস জুনিয়রের নেয়া শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন গোলরক্ষক ন্যুয়ার। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের জমজমাট লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ৪১ মিনিটে জালের দেখা পায় বায়ার্ন। জিনাব্রির ছোট থ্রু পাস ডি-বক্সে ধরেই নিখুঁত শটে লুনিনকে পরাস্ত করেন দিয়াজ। ৪৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দ্রুত আক্রমণে উঠে ডি-বক্সের বাইরে মাইকেল ওলিসের পাস ফাঁকায় পেয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন হ্যারি কেন। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে ৪১ ম্যাচে ৪৯টি গোল হলো ইংলিশ ফরোয়ার্ডের। যার মধ্যে ১১টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে।
দ্বিতীয় গোল হজমের পর আত্মবিশ্বাস আরো নড়বড়ে হয়ে পড়ে রিয়ালের। ৫৭ মিনিটে আবার বিপজ্জনক সীমানায় ঢুকে হ্যারি কেন শট নিলে পা বাড়িয়ে কোনোমতে আটকান ভালভার্দে। ৬৬ মিনিটে ভিনিসিয়াসের শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় আটকে দেন ন্যুয়ার। দুই মিনিট পর দুরূহ কোণ থেকে ফরাসি ফরোয়ার্ডের শট হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। অবশেষে ৭৪ মিনিটে গোলমুখে ট্রেন্ট-আলেকজান্ডার আর্নল্ডের বাড়ানো বলে পা বাড়িয়ে জালে জড়িয়ে দেন এমবাপ্পে। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফরাসি ফরোয়ার্ডের গোল হলো ১৪টি। আর পুরো মৌসুমে সব মিলে ৩৭ ম্যাচে ৩৯টি। এক গোল শোধের পর উজ্জীবিত হয়ে ওঠে রিয়াল। তবে বারবার আক্রমণে উঠলেও জাল খুঁজে পাচ্ছিল না। নির্ধারিত সমযের শেষ মিনিটে এমবাপ্পের আরেকটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রিয়ালকে।