নারায়ণগঞ্জ ও কুষ্টিয়ায় ২০২৫ সালের প্রশ্ন বিতরণ
দৌলতপুরে ২ কক্ষ পরিদর্শক ও কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রথম দিনে গতকাল কুষ্টিয়া ও নারায়ণগঞ্জের দু’টি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এক ঘণ্টা পর এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাও উপজেলায় এক ঘণ্টা ২৫ মিনিট পর ভুল ধরা পড়লে প্রশ্ন পাল্টে দেয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে অতিরিক্ত সময় বাড়িয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়। এ ঘটনায় দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও যে কক্ষে এ ঘটনা ঘটে তার দুই পরিদর্শককে বরখাস্তের সুপারিশ করেছেন।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গতকাল এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম দিনের বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ১৭ জন শিক্ষার্থীকে ভুল (২০২৫ সালের সিলেবাসে) প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক ঘণ্টা পর নতুন প্রশ্নপত্র দেয়া হলেও, ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাত্র আধা ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় দেয়ায় চরম বিপাকে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শুরুর পর কক্ষ পরিদর্শক বালিরদিয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাহারুল ইসলাম ও ভুরকাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশেদা খাতুন ১৭ জন শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে সাথে সাথে পরিদর্শকদের অবগত করেন এবং প্রশ্ন পরিবর্তন করে দিতে বলেন; কিন্তু পরিদর্শকরা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে বরং তাদের ধমক দিয়ে পুরাতন প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বাধ্য করেন। ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও নষ্ট হওয়া এক ঘণ্টা সময়ের বিপরীতে মাত্র ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেয়া হয়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা।
বিষয়টি জানতে পেরে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ তাৎক্ষণিক কেন্দ্রে উপস্থিত হন। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও উপস্থিত শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন। ঘটনার প্রমাণ পাওয়ায় তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করেন এবং কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী, কক্ষ পরিদর্শক বাহারুল ইসলাম ও রাশেদা খাতুনকে পরীক্ষা সংক্রান্ত সব দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেন।
ঘটনার বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ইয়ার আলী বলেন, প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় অসাবধানতাবশত এ ভুলটি হয়েছে। বিষয়টি জানামাত্রই আমরা ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করেছি। এটি অনিচ্ছাকৃত একটি ভুল ছিল, তারপরও প্রশাসনের নেয়া সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানাই।
সোনারগঁাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্নে ১৭৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলা প্রথম পত্র সৃজনশীল পরীক্ষায় এক ঘণ্টা ২৫ মিনিট পরীক্ষা দেয়ার পর বিষয়টি নজরে এসে। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে হৈ চৈ পড়ে যায়। এ ঘটনা নজরে আসার পর তড়িঘড়ি করে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন কেন্দ্র সচিব মো: আবদুল মতিন সরকার। পরে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরীক্ষা কেন্দ্রে কেন্দ্র সচিবের পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভ করেন। তারা গাফলতিকে দায়ী করেছেন।
জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষা উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ বছর সিনহা উচ্চ বিদ্যালয়, দবরউদ্দিন ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও নাসিম মেমোরিয়াল ল্যাবরেটরি স্কুলের ৭৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ১৭৭ জন শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। এ প্রশ্নেই শিক্ষার্থীরা এক ঘণ্টা ২৫ মিনিট পরীক্ষা দেয়। পরবর্তীতে পুরাতন প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে আসে। বিষয়টি কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনওকে জানিয়ে সঠিক প্রশ্নে সময় বৃদ্ধি করে পরীক্ষা নেয়া হয়।
কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মো: আবদুল মতিন সরকার জানান, সিলেবাসের সাল দৃষ্টিগোচর না হওয়ার কারণে এমন হয়েছে। তা ছাড়া প্রশ্নের অতিরিক্ত আরো দু’টি প্রশ্নের প্যাকেট বেশি আসায় বিষয়টি নজরে আসেনি। ফলে এমন পরিস্থিতি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এ বিষয়টি মাথায় রেখে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত বলেন, পুরাতন সিলেবাসে পরীক্ষার বিষয়টি নজরে আসামাত্র বোর্ডের কর্মকর্তারদের সাথে কথা বলে অতিরিক্ত সময় দিয়ে নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। আশা করি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।