সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় ইস্যু নিষ্পত্তি হবে আপিল বিভাগে : অ্যাটর্নি জেনারেল

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বতন্ত্র ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়টি আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল এই ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করেছে এবং নথিপত্র হাতে পেলেই আনুষ্ঠানিক আপিল দায়ের করা হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল গুরুত্বারোপ করে বলেন যে, হাইকোর্টের এই রায়ের সাথে গভীর সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও প্রশ্ন জড়িত, তাই তারা আশা করছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ আপিল বিভাগেই সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার এই দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হবে।

এর আগে মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৮৫ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী আদেশের তিন মাসের মধ্যে একটি স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই রায়ে হাইকোর্ট অধস্তন আদালতের বিচারকদের ওপর সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছেন, যা এতকাল রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত ছিল। রিটের পক্ষে থাকা আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির জানান, এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে নি¤œ আদালতের নিয়ন্ত্রণ এখন থেকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, রায়ে সুপ্রিম কোর্টের জন্য সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে এবং বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে গুরুতর আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত থাকায় রায়ে সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে আপিল করার জন্য সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। অর্থাৎ সরাসরি আপিল করা যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হবে। আপিল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় কার্যকর হবে না। যেহেতু বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের সাথে সম্পর্কিত এবং বিচার সুপ্রিম কোর্টে হচ্ছে, সুতরাং সাংবিধানিক বিষয়টির বিচার এমন মানদণ্ডে উন্নীত হতে হবে, যেন কেউ কখনো সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে।

হাইকোর্টের এই রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সেই সংশোধনীগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে যা ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনী এবং পরবর্তীকালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আনা হয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই সংশোধনীগুলো সংবিধানের মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহাল হবে। মূল সংবিধান কার্যকর হলে বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরসহ যাবতীয় শৃঙ্খলা বিধানের একক ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে চলে আসবে। এ ছাড়া ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাকেও রায়ে সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে সাতজন আইনজীবীর দায়ের করা একটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন।