প্রিভিউ কর্নার

নকআউটের আগে জর্দান ম্যাচে পরীক্ষা আর্জেন্টিনার

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

আর্জেন্টিনার আরো একটি ম্যাচ, আরো একটি জয়। আরো একটি অনবদ্য কীর্তির সামনে লিওনেল মেসি আটবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজের খ্যাতিকে আরো দৃঢ় করেছেন। এই জয়ে গ্রুপ ‘জে’-তে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে শেষ ৩২-এ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ফলে গ্রুপ পর্বে নিয়ম রক্ষার শেষ ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আজ মুখোমুখি হবে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া জর্দানের। যুক্তরাষ্ট্রের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি দুই দলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন গুরুত্ব বহন করছে। অপরাজিত থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করার লক্ষ্য আলবিসেলেস্তেদের হলেও প্রথম দুই ম্যাচে হেরে বিদায় নিশ্চিত করায় শুধুই সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে খেলবে জর্দান। তবে শক্তির বিচারে অনেক ফারাক রয়েছে দুই দলের। ফিফা বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বরে আছে আর্জেন্টিনা। আর ৭১ নম্বর অবস্থান জর্দানেন। বাংলাদেশ সময় আজ সকাল ৮টায় মাঠের লড়াইয়ে নামবে দুই দল।

গ্রুপ পর্বে প্রথম দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শুরুর পর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল। দুই ম্যাচেই দলের আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত ছন্দে। প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও দুই গোল করে এখন পর্যন্ত ৫ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুট জয়ের তালিকায় এগিয়ে অধিনায়ক মেসি। আগের ম্যাচগুলোতে প্রায় নিখুঁত ছিল রক্ষণভাগও। নিয়ম রক্ষার এই ম্যাচে তাই দলের মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রামে দিয়ে বেঞ্চের শক্তি যাচাইও করতে পারেন কোচ স্কালোনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে গ্রুপের শেষ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে অধিনায়ক মেসিকে ঘিরে। প্রথম দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে তিনি দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। তবে নকআউটের কথা মাথায় রেখে তাকে বিশ্রাম দেয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। যদি তিনি না খেলেন, তাহলে আক্রমণে লাউতারো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ কিংবা অন্য রিজার্ভ ফুটবলারদের সুযোগ মিলতে পারে। ম্যাচে কৌশলগতভাবে বলের দখল রেখে ধৈর্যের সাথে আক্রমণ গড়তে পছন্দ করে আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠে পাসিং, উইং ব্যবহার এবং দ্রুত আক্রমণে ওঠার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্য দিকে বিশ্বকাপের অভিষেকের যাত্রাটা প্রত্যাশামতো হয়নি জর্ডানের। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষেও ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয় এশিয়ান দেশটি। তবে দুই ম্যাচেই লড়াই করার মতো মানসিকভাবে চাঙ্গা ছিল দলটির ফুটবলাররা। কয়েকটি ভালো আক্রমণ গড়ে তুললেও লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল তাদের আক্রমণভাগ। ফলে বিদায়ের আগে অন্তত একটি ইতিবাচক পারফরম্যান্স উপহার দেয়ার লক্ষ্য কোচ জামাল সেলামীর শীর্ষদের। রক্ষণ শক্ত করে কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর নির্ভর করবে জর্ডান। তবে আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট একই ছন্দ ধরে রাখা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে।

এটি দুই দলের ইতিহাসে প্রথম আন্তর্জাতিক মুখোমুখি লড়াই। ফিফা র‌্যাংকিং, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং খেলোয়াড়দের মান- সব দিক থেকেই স্পষ্ট ফেবারিট আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে যেকোনো দলই চমক দেখাতে পারে, আর সেই আশাতেই মাঠে নামবে জর্ডান।