মোবাইল হ্যান্ডসেট বাধ্যতামূলক নিবন্ধন শুরু

প্রতিবাদে বিটিআরসি কার্যালয়ে ব্যবসায়ীদের হামলা, ভাঙচুর

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

মোবাইল ফোন সেটে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করায় আগামীতে দেশের টেলিকম নেটওয়ার্কে নতুন করে যুক্ত প্রতিটি হ্যান্ডসেটকেই আগেভাগে নিবন্ধনের অন্তভুক্ত করতে হবে। নতুন বছরের শুরুর দিন গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার-এনইআইআর কার্যক্রম চালু হয়েছে।

এ দিকে এনইআইআর পদ্ধতি চালুর প্রতিবাদে এ দিন বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁও টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন মোবাইল সেট ব্যবসায়ীরা। এতে ভবনটির সামনের কাচের বেষ্টনী ভেঙে গেছে এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এনইআইআর পদ্ধতি চালুর প্রতিবাদে তারা দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে এবং এনইআইআর স্থগিতের দাবি জানিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে আসছিল। গতকালও ব্যবসায়ীরা এনইআইআর কার্যক্রম স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে। এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো অবৈধ হ্যান্ডসেট বা ‘গ্রে মার্কেট’ এর ফোন বন্ধের প্রতিবাদে রাজধানীর কাওরানবাজার মোড়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির উপপরিচালক (মিডিয়া) জাকির হোসেন খাঁন নয়া দিগন্তকে জানান, বিটিআরসি ভবনে দুর্বৃত্তদের এ ধরনের হামলা নজিরবিহীন। হামলায় ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার সময় ভবনের ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আটকা পড়েন এবং তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, এনইআইআর পদ্ধতি চালু করা হয়েছে মূলত সাধারণ মোবাইল গ্রাহকদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করা, সুলভ মূল্যে গুণগত মানসম্পন্ন হ্যান্ডসেট প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদন উৎসাহিত করার জন্য। বিটিআরসি বারবার স্পষ্ট করেছে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যবহৃত হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে গেছে। তার পরও কিছু দুর্বৃত্ত এভাবে হামলা চালায়। জাকির খাঁন জানান, বিটিআরসি অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে এনইআইআর চালুর কার্যক্রম পিছিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন- বিটিআরসি। গ্রেমার্কেটে দেশে মোবাইল ফোন আমদানি করা ‘অতালিকাভুক্ত’ ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অবিক্রীত বা স্টকে থাকা ফোনের তথ্য জমা দেয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। বুধবার সেই সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় বিনা ট্যাক্সে হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের সেই সুযোগও শেষ হলো ব্যবসায়ীদের।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রবাসীরা তাদের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি দু’টি নতুন হ্যান্ডসেট দেশে আনতে পারবেন। আর সেসব ফোন এনইআইআর নিবন্ধনের জন্য তিন মাসের সময় পাবেন তারা। এই তিন মাস হ্যান্ডসেটগুলো সচল থাকবে। ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র দিয়ে এসব ফোন এনইআইআরে নিবন্ধন করা যাবে।

এ দিকে গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে মোবাইল ফোন আমদানি ও উৎপাদনে কাস্টমস ডিউটি ও ট্যাক্স কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।