অবিলম্বে অপসারণ দাবি ছাত্রদলের
এনসিটিবি ফ্যাসিবাদের দোসরদের নতুন আস্তানা
শহীদদের আত্মত্যাগ ও পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু নিয়ে উদাসীনতার অভিযোগ
Printed Edition
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড তথা এনসিটিবিতে আবারো প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে ফ্যাসিবাদীর দোসররা। গত ২৫ মার্চ থেকে এনসিটিবির চেয়ারম্যান পদ ফাঁকা থাকার সুযোগে নিজেদের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। আওয়ামী আমলে দীর্ঘ ১৫ বছর ঢাকায় সুবিধামতো পদায়ন নিয়ে চাকরি করলেও গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অনেকেই তারা ভোল পাল্টিয়ে নিজেদের বঞ্চিত পরিচয় দিয়ে এনসিটিবিতেই পদায়ন নিয়েছেন। এদের একজন এনসিটিবির গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর ড. রিয়াদ চৌধুরী, যার চাচা নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খাইরুল আলম সেলিম। শিক্ষা প্রশাসনে জনশ্রুতি রয়েছে যে, রিয়াদ চৌধুরী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সুপারিশ এবং আশীর্বাদে আওয়ামী আমলে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ কন্ট্রোলার পদে দীর্ঘ পাঁচ বছর অধিষ্ঠিত ছিলেন। এ সময়ে তিনি অঢেল অর্থবিত্ত এবং ঢাকায় বিশাল এক ফ্ল্যাটের মালিকও হয়েছেন। ওবায়দুল কাদেরের ভাতিজা পরিচয়ে তিনি আওয়ামী আমলের অধিকাংশ সময় ঢাকায় এবং লোভনীয় পদেই চাকরি করেছেন।
এদিকে দেশ যখন দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত হয়েছে ঠিক তখনো এনসিটিবিতে নতুন সুবিধাবাদী এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। গতকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে এনসিটিবি থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব গভীরভাবে ধারণ করলেও এনসিটিবি তা সঠিকভাবে প্রতিফলিত করছে না।
গতকাল দুপুরে দৈনিক নয়া দিগন্তসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির জানান, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান শুধু বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্বেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে সমাদৃত। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে ছাত্র-জনতার এত জীবন আর রক্ত দেয়ার পরেও এনসিটিবি তাতে যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করছে না।
বিবৃতিতে নেতারা এনসিটিবির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর রবিউল কবীর চৌধুরী এবং সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) ড. রিয়াদ চৌধুরীকে ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার অবৈধ ক্ষমতার সুবিধাভোগী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এদের এখনো যোগাযোগ রয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ও নওফেলের সাথে এবং তাদের প্রভাবের কারণে এনসিটিবি এখনো ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারা নিয়ে কাজ করে চলেছে।
ছাত্রদল নেতারা দাবি করেন, এনসিটিবির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর যথাযথ চাপ না দিলে পরবর্তী প্রজন্মকে সত্যিকার ইতিহাস জানানো সম্ভব হবে না। তারা আরো বলেন, এনসিটিবির উচিত ছিল জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য নিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ পাঠ্যক্রম তৈরি করা। কিন্তু তা না হয়ে, তারা শহীদদের আত্মত্যাগের বিষয়ে উদাসীন এবং চুপিসারে তারা এখনো ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা চালাচ্ছে। জাতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এনসিটিবি থেকে ফ্যাসিস্টদের অপসারণের দাবি জানিয়ে ছাত্রদল নেতারা বর্তমান অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের কাছে অবিলম্বে এই দুই কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে গতকাল বিকেলে প্রফেসর ড. রিয়াদ চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বন্তু কী হবে বা কেমন হবে সেই দায়িত্ব আমার নয়। আমার নামের সাথে পাঠ্যপুস্তÍক লেখা থাকার কারণেই অভিযোগটি প্রথমে আমার দিকেই সবাই দিতে চায়। এটা ঠিক নয়। মূলত পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু নির্ধারিত হয় একটি কমিটির মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমার পরিবারের কেউ আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। আর আমি ঢাকায় ভালো পদে চাকরি করেছি বিষয়টি এমনও নয়। কেননা এর আগে আমি ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন জেলাতেও চাকরি করেছি। অপর দিকে ছাত্রদলের অভিযোগের বিষয়ে এনসিটিবির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর রবিউল কবীর চৌধুরীর সাথে গতকাল সন্ধ্যায় তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।