ঢামেকে চিকিৎসক-ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকদের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এর জেরে নিরাপত্তার কারণে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাবির অমর একুশে হলের এক শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সেবা নেন। এ সময় তাকে দেয়া প্রেসক্রিপশনের একটি ওষুধ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে চিকিৎসকদের জানান। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কিছুক্ষণ পর ওই শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীরা হাসপাতালে এসে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ওষুধ বাইরে পাওয়া যাচ্ছে না। এক পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

অপরদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকরা জানান, বিকেলে ঢাবির এক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে আসেন। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) লিখে দেন। তবে কাক্সিক্ষত ওষুধ সরকারিভাবে হাসপাতালে সরবারাহ না থাকায় ওই শিক্ষার্থীকে তা বাইরে থেকে কেনার পরামর্শ দেয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সাথে বাগি¦তণ্ডা শুরু করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ডাক দেন এবং নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ করে দেন।

এদিকে জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা জরুরি রোগীরা চরম বিপাকে পড়েন। তবে সন্ধ্যার পর জরুরি সেবা ফের শুরু হয়।