জাকসু নির্বাচন

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যারা

তারা নিজেদের অধিকার ও সক্ষমতার স্বীকৃতি আদায়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দিতে চান।

আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Printed Edition
JUCSU-Election
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যারা

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর হতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কয়েকটি প্যানেলও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থীরা অদৃশ্য প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এরই মধ্যে আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কয়েকজন শিক্ষার্থী। শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও তারা অংশ নিচ্ছেন জাকসু নির্বাচনে। তারা নিজেদের অধিকার ও সক্ষমতার স্বীকৃতি আদায়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দিতে চান।

প্রতিবন্ধকতাকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে শামিল হওয়া এই প্রার্থীদের মধ্যে আছেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো: সজীব চৌধুরী, একই বিভাগ ও ব্যাচের শিক্ষার্থী আইরিন সুলতানা আঁখি, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদ্দাম আলী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫১তম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আলিফ ও ইতিহাস বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মহসীন আলী। এর মধ্যে সজীব চৌধুরী ২০১৩ সালে তার দৃষ্টিশক্তি হারান। তবে দৃঢ় মনোবল ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়নরত। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে শুরু থেকেই নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। তিনি রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বাঁধন’-এর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির জোনাল কমিটির সহ-সভাপতি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সংগঠন ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি, লিও ক্লাবের সেক্রেটারি। বর্তমানে তিনি বাংলা সংসদের শিক্ষা বিষয়ক সস্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। জাকসু নির্নাচনে তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল সংসদে ভিপি পদে স্বতন্ত

বাংলা বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী আইরিন সুলতানা আঁখি জন্ম থেকেই চোখে দেখতে পান না। তিনি জাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদে সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

তিনি জানান, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ স্কুলে আমার পড়াশোনা পাঠ শুরু হয়। সেখানেই বিভিন্ন সংগঠন, কো-কারিকুলার এক্টিভিটিতে যুক্ত ছিলাম। ছোটবেলা থেকেই আমার উপলব্ধি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বিষয়ে আমরা সামাজিকভাবে সচেতন না। তাই বিভিন্ন সঙ্কট দেখা যায়। আমাদের ব্রেইল বই নেই, পিডিএফ, অডিও সহজলভ্য নয়। আমাদের শ্রুতিলেখক খুঁজতে সঙ্কটে পড়তে হয়। যারা শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী তাদেরকেও নানা প্রপ্তিবন্ধকতা পোহাতে হয়। একটু সচেতন হলেই- যারা হাঁটতে পারেন না তাদের লিফটের ব্যবস্থা যেখানে করা যেতো তা করার কেউ নেই। এসব প্রতিবন্ধকতা যাতে দূর করতে পারি সে জন্যই আমি এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি।

শাখা ছাত্রদলের শহীদ সালাম বরকত হলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আলিফ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তিনিও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই আমি তৎকালীন দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। আগে থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আদর্শে বিশ্বাসী থাকায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও শিক্ষার্থীদের অধিকারের প্রশ্নে আমি বিভিন্ন সময় আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকসু নির্বাচনকে আমি গণতন্ত্র চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখি। আমি বিশ্বাস করি, জাকসুতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমি ছাত্রসমাজের প্রকৃত চাহিদা ও সমস্যাগুলোকে তুলে ধরতে পারব।

জাকসু বির্বাচনে শাখা ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ থেকে কার্যকরী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জন্মান্ধ শিক্ষার্থী মো: মহসীন আলী। তিনি দেশব্যাপী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের সংগঠন ব্রাইট ফিউচার ফর ফিজিক্যালি ডিজএবল সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনিও শিক্ষার্থীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। তার প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মীর মশাররফ হোসেন হল সংসদে কার্যকরী পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাদ্দাম আলী ।