গাজীপুর-২ আসনে জোট রাজনীতির ধোঁয়াশা প্রশ্নবিদ্ধ ‘চাপিয়ে দেয়া’ প্রার্থিতা
Printed Edition
মো: আজিজুল হক গাজীপুর মহানগর
এগারোদলীয় জোট গঠনের পর গাজীপুর-২ (টঙ্গী-সদর) আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। কে পাচ্ছেন জোটের চূড়ান্ত মনোনয়ন- এমন প্রশ্নে যখন স্থানীয় রাজনীতি উত্তাল, তখন মাঠের বাস্তবতা ও সাংগঠনিক শক্তির বিচারে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকেই এগিয়ে রাখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জোট গঠনের পর দেশের বিভিন্ন আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হলেও গাজীপুর-২ আসনে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হোসেন আলী দলীয় অনুমতিক্রমে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম, জনসংযোগ ও মাঠ প্রস্তুতি থাকায় দলটি শুরু থেকেই এ আসনকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে।
অন্য দিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আলী নাছেরের প্রার্থিতা ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিশেষ করে তিনি নিজেই ফেসবুক পোস্টে গাজীপুর-২ আসনে নিজেকে ‘আরো যোগ্য প্রার্থীর প্রয়োজন রয়েছে’ বলে উল্লেখ করে প্রাথমিক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার পর হঠাৎ আবার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করায় প্রশ্ন উঠেছে- ‘তাহলে তাকে কি জোর করে জোট প্রার্থী হিসেবে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে?’
জোট শরিকদের একাধিক তৃণমূল নেতার অভিযোগ, আলী নাছের এ আসনের রাজনীতিতে তুলনামূলক অপরিচিত। অতীতে তিনি এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো গণসংযোগ, নির্বাচনী প্রচারণা বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী বহু আগেই মাঠে নেমে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর প্রচারণাও ছিল দৃশ্যমান ও সক্রিয়।
স্থানীয় জামায়াত নেতাদের ভাষ্য, রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গাজীপুর-২ আসন ছেড়ে দেয়া রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। বিএনপি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় নির্বাচনী সমীকরণেও এ আসন জামায়াতের জন্য তুলনামূলক অনুকূলে ছিল। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি, কর্মিসমর্থিত গণজাগরণ ও ভোটব্যাংক বিবেচনায় জামায়াতই এখানে জোটের সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে থাকা দল- এমনটিই মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে গাজীপুর-২ আসনে এখন মূল প্রশ্ন; মাঠের বাস্তবতা, জনসমর্থন ও সাংগঠনিক শক্তিকে গুরুত্ব দেয়া হবে, নাকি সমঝোতার নামে এমন একজন প্রার্থীকে সামনে আনা হবে যার নিজের প্রতিই আত্মবিশ্বাস নেই।