বর্ষবরণ
নিষেধাজ্ঞার পরও আতশবাজির শব্দে কাঁপল ঢাকার আকাশ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিষেধাজ্ঞার পরও বর্ষবরণে রাত ১২টা বাজতেই কেঁপে ওঠে রাজধানী ঢাকার আকাশ। প্রায় প্রতিটি এলাকার ভবনের ছাদ থেকে ফোটানো হয় বিকট শব্দের আতশবাজি। ওড়ানো হয় ফানুস। শুধু তা-ই নয়, বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বাজানো হয় উচ্চ শব্দে গান; অথচ এসব কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি ও পরিবেশ অধিদফতর। ভুক্তভোগীরা বলছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায় এই শব্দসন্ত্রাস বন্ধ হচ্ছে না।
বুধবার রাত ১২টায় ছিল ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ বরণের আয়োজন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১২টা বাজার আগেই শুরু হয় পটকাবাজির শব্দ। ঘড়ির কাঁটায় ১২টা বাজতেই ছাদে ছাদে শুরু হয় আতশ পটকাবাজির প্রতিযোগিতা। যার ভয়ঙ্কর শব্দে কেঁপে ওঠে ঢাকা। জরুরি সেবা ৯৯৯ কর্তৃপ জানায়, নববর্ষের প্রাক্কালে ৩১ ডিসেম্বর এবং নববর্ষের দিন ১ জানুয়ারি দুই দিনে শব্দদূষণসংক্রান্ত মোট ৩৮১টি ফোনকল গ্রহণ করা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকা থেকে এসেছে ৯৬টি এবং দেশের অন্যান্য স্থান থেকে এসেছে ২৮৫টি অভিযোগ। মিরপুর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা আলফাজ রহমান বলেন, এতটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি পৃথিবীর সভ্য দেশগুলোতে হয় না। তারা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বর্ষবরণ উৎসব করে থাকেন। তিনি বলেন, পুলিশ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে পরিস্থিতি এতটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করত না। বর্ষবরণের আগে প্রতিটি বাড়ির মালিকদের যদি বলে দেয়া হয় যার বাড়ির ছাদে বাজি ফুটানো হবে ওই বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তা হলে পুলিশের কাজ ওই সব বাড়িওয়ালাই করে দিতেন। সে ধরনের পদক্ষেপ না নিয়ে মিডিয়ায় ব্রিফিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
৯৯৯-এর পুলিশ পরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) আনোয়ার সাত্তার জানান, অভিযোগগুলোর বেশির ভাগই ছিল আতশবাজি ফোটানো, উচ্চশব্দে গান-বাজনা ও মাইকের অতিরিক্ত ব্যবহারসংক্রান্ত। প্রতিটি অভিযোগের েেত্র ৯৯৯ থেকে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে অবহিত করা হয় এবং তাৎণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকারের উদ্যোগ নেয়া হয়। তিনি জানান, জনসাধারণের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল। এ দিকে শব্দদূষণ রোধে আইন মেনে উৎসব উদযাপনের জন্য নাগরিকদের আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ। এর আগে ডিএমপি ও পরিবেশ অধিদফতর থেকে আতশবাজি ফোটানো ও ফানুস ওড়ানো বন্ধে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল।